ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সী (৪৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তরু ওই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সীর ছেলে ও সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এদিকে, আহত কৃষক দলনেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা শহর সহ সদরের গান্না ইউনিয়নে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জানা যায়, শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম শুরু করে। তালিম শেষে তাদের ওই বাড়িতেই ইফতার মাহফিল করার কথা ছিল। পরে বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিমের খবর পেয়ে কৃষক দলনেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলী সহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিম বন্ধ করতে বলে। এ নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে কৃষক দল নেতা তরু, শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কৃষক দল নেতা তরু গুরুতর আহত হলে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। জেলা বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী বলেন, তরু মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রামে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা চালায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমরা দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোরপূর্বক তালিমে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি’র কয়েকজন কর্মী তালিমে যেতে বাধ্য করার ব্যাপারে জামায়াতের নারী কর্মীদের কাছে জানতে গেলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ওই সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপি’র নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত আমাদের কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি মারা গেছেন। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও গ্রেপ্তার দাবি করছি। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
ঝিনাইদহে জামায়াত-বিএনপি’র সংঘর্ষে আহত কৃষক দল নেতার মৃত্যু
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
১৫ মার্চ (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
