সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

ফন্ট সাইজ:

আগামী ৩ মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে আবেদন করেছি। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেলেই আমরা আপিল করবো। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশিত হয়েছে। আমি রায়টি পড়েছি। হাইকোর্টের এই রায়ের সঙ্গে সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত। যেহেতু এটি সংবিধানের ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিলেও এটি চূড়ান্ত নয়। এখনই রায়ের কার্যকারিতা কার্যকর হচ্ছে না। রায়টি পর্যালোচনার পর আপিল দায়ের করা হবে। এখানে লিভ টু আপিল নয়, সরাসরি আপিল করা হবে। আপিলে এই রায়ের বিষয় ও সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকলেও হাইকোর্ট সার্টিফিকেট দিতে পারেন। আমরা সংবিধানের ব্যাখ্যার জন্য সেই সার্টিফিকেট চেয়েছিলাম। আদালতও রায়ের সেটা দিয়েছেন। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপিল বিভাগে হওয়াই সমীচীন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের অবস্থান হলো, যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত, সেহেতু দ্রুতই আপিল করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার এই বিষয়টিকে সুপ্রিম কোর্টের ‘নিজস্ব বিষয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপিল বিভাগ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। পুরা বিষয়টি কিন্তু আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ এখানে যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, সেটা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, স্বতন্ত্র সচিবালয়। রায়টি দিয়েছে কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগ, সেটা সুপ্রিম কোর্টের অংশ। আমরা এখন যে মামলাটি বা আপিলটি আপিল বিভাগে শুনানি করবো, সেটাও কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট করবে। সুতরাং সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু তার নিজস্ব বিষয় বিবেচনা করবে এবং এব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত দিবেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যে ভবিষ্যতের এই মামলা যখন শুনানি হবে, কোনোভাবেই যেন এমন কোনো প্রশ্ন কখনো তৈরি না হয় যে, সুপ্রিম কোর্ট তার নিজস্ব ব্যাপারের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে কেউ সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইতিমধ্যেই সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা আল্টিমেটলি এই রায়, সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবেন।

রায়ের কার্যকারিতা এবং বর্তমানে সংসদে থাকা অধ্যাদেশ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই চূড়ান্ত রায়টি প্রকাশিত হয়েছে ৭ই এপ্রিল। রায়টি ঘোষিত হয়েছে ২রা সেপ্টেম্বর ২০২৫। যেকোনো রায় যখন ঘোষণা করা হয়, তখন কিন্তু তার কার্যকারিতার ডিরেকশনটা যে সময় থেকে ঘোষণা করা হয় তারপর থেকে কার্যকর হয়। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আমরা দেখেছি এ রায়ের পরপরই, অর্থাৎ চূড়ান্ত রায়টি প্রকাশিত হওয়ার আগেই একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। সেই অধ্যাদেশটি বর্তমানে আমাদের জাতীয় সংসদে বিবেচনাধীন আছে। সুতরাং, এই রায়ের পরপরই কিংবা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই অধ্যাদেশ জারির যে বিষয়টি, সেটি হচ্ছে সংসদের কাছে এখন বিবেচ্য রয়েছে। সংসদ তার স্বীয় বিবেচনায় স্বাধীন, স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।

অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি বা ‘মুখোমুখি অবস্থান’ তৈরি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটা পদ্ধতি থেকে আরেকটা পদ্ধতিতে উত্তরণের ক্ষেত্র। সুতরাং মাঝখানে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার কারণে আমাদের বিচার বিভাগের ফাংশনের ক্ষেত্রে, তার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হবে না। এ ছাড়া যেহেতু সংবিধানের ১০৩ ধারা অনুযায়ী এটি আপিলে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে তাই এটি নিয়ে কোনো আইনি শূন্যতা সৃষ্টি হবে না। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২রা সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত এ রায় দেন। রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত- সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এ বিধান বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। ফলে এ দায়িত্ব এখন সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত শৃঙ্খলা বিধিমালাও বাতিল করা হয়। এ ছাড়া রায়ে সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন