লাখাইয়ে সাপের কামড়ে ৬ সন্তানের জননীর মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া উত্তর গ্রামে অসচেতনতা ও সাপের কামড়ে রেজিয়া বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী এবং ৬ সন্তানের জননী। শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে রেজিয়া বেগম রাতের রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রান্নার চুলার আগুন ধরাতে তিনি রান্নাঘরে রাখা লাকড়ির (খড়ি) স্তূপ আনতে যান। এ সময় লাকড়ির ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ তার হাতে কামড় দেয়।

প্রাথমিকভাবে কামড়ের তীব্রতা বুঝতে না পেরে এবং কিসে কামড় দিয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টিকে কিছুটা অবহেলা করেন রেজিয়া বেগম। সাপে কাটার স্থানে কোনো প্রকার বাঁধ (বাঁধন) না দিয়েই তিনি নিজে ব্যথার ওষুধ আনার জন্য স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যেই বিষ দ্রুত তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রেজিয়া বেগমের অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, সাপে কাটার পর আক্রান্ত স্থানে সঠিক নিয়মে বাঁধ না দেওয়া এবং হাসপাতালে না গিয়ে পল্লী চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ফলে শরীরে অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষ প্রতিষেধক) দেওয়ার আগেই বিষ রোগীর শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার কারণে তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এদিকে ৬ সন্তানের জননী রেজিয়া বেগমের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তেঘরিয়া উত্তর গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারে বইছে মাতম।

স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার পর সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সাপে কাটলে ওঝা বা পল্লী চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে আক্রান্ত স্থানটি স্থির রেখে সরাসরি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের আধুনিক ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কার্যকরী চিকিৎসা (অ্যান্টিভেনম) রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন