আলুর বিষক্রিয়ায় বোরো ধানে বিপর্যয় তিন শতাধিক বিঘার জমি ক্ষতিগ্রস্ত

আলুর বিষক্রিয়ায় বোরো ধানে বিপর্যয় তিন শতাধিক বিঘার জমি ক্ষতিগ্রস্ত

ফন্ট সাইজ:

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আলু উত্তোলনের পর জমিতে পড়ে থাকা পচা আলুর বিষক্রিয়ায় বোরো ধানের চারা ব্যাপক হারে নষ্ট হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর ব্যাপক ক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন এই বিপর্যয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০০ বিঘার বেশি জমির ধান সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হয়ে গেছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সরজমিন উপজেলার মাত্রাই, মোসলেমগঞ্জ, উদয়পুর, আওড়াঁ, ধাপপাড়া, হাতিয়র গোবিন্দপুর, চাকলমওয়া, ছাতিয়ানপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, কোথাও ধানের চারা পুরোপুরি মারা গেছে, আবার কোথাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হলুদ হয়ে আছে। অনেক জমিতে এখনো পচা আলুর কারণে মাটির নিচ থেকে গ্যাসের বুদবুদ উঠছে যা চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বারের মতো ধান রোপণ করছেন, আবার কেউ কেউ চারা সংকটে পড়ে আবাদ ছেড়ে দেয়ার কথাও ভাবছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সংকটময় সময়ে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা ছিল না এবং কোনো কর্মকর্তা সরাসরি গিয়ে পরামর্শ দেননি। ফলে অনেকেই না বুঝে পচা আলুর জমিতে বারবার ধান রোপণ করে আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কালাই উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। তবে অসময়ের টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমির আলু পানিতে পচে যায়, ফলে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হন। সেই পচা আলুর জমিতেই বোরো ধান রোপণের পর এখন নতুন করে চারার মৃত্যু দেখা দিয়েছে। মান্দাই গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে তার ৭২ শতক জমির আলু নষ্ট হয়ে যায়। পরে ঈদের পর নতুন করে খরচ করে ধান রোপণ করলেও সব চারা মারা গেছে। এখন অন্যের জমি থেকে বয়স্ক চারা সংগ্রহ করে আবার রোপণ করতে হচ্ছে, যা তার জন্য আরও আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদ বলেন, বৃষ্টির পানিতে আলু নষ্ট হওয়ার পর কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল যেন তারা জমি পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ধান রোপণ করেন। যেকোনো জৈব পদার্থ পচতে ১৮ থেকে ২০ দিন সময় লাগে কিন্তু অনেক কৃষক তাড়াহুড়ো করে চারা রোপণ করায় এই ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং যারা বোরো ধানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আউশ আবাদ করবেন, তাদের বীজ ও সার সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন