মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ও ভেন্যু নির্ধারণ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা সরজমিন পরিদর্শন ছাড়াই কেন্দ্র ও ভেন্যু চূড়ান্ত করেছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বাধ্যতামূলক। একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনি গত বছরের তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু বাদ দেয়াকে ঘিরেও বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১ থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত রাঘনা বটুলী উচ্চ বিদ্যালয়কে এবার এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের অধীনে প্রথমে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয় ও ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও পরে শিক্ষা বোর্ড সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের নিজ বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরের কেন্দ্র না দিয়ে সীমান্তবর্তী প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের রাঘনা বটুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। যা অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শুধু যাতায়াত নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহন নিয়েও রয়েছে গুরুতর উদ্বেগ। উপজেলা সদর থেকে এত দূরে কেন্দ্র হওয়ায় থানা থেকে প্রশ্নপত্র পৌঁছাতে দেরি হওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এদিকে ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়কে একটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে। গত বছর মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়- উভয়ই ভেন্যু হিসেবে সক্রিয় ছিল। কিন্তু চলতি বছর সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেন্যু বাদ দেয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে অযৌক্তিক ও বিতর্কিত বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি জুড়ী-ফুলতলা সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং বাস সার্ভিসও চালু রয়েছে। সাগরনালকে কেন্দ্র করা হলে ফুলতলার শিক্ষার্থীরা মাত্র দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারতো। সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থে সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়কে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
কেন্দ্র না হলেও অন্তত ভেন্যু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসহাক আলী জানান, তিনি তার বিদ্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের জন্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন করেছিলেন। প্রথমে আবেদনটি বাতিল করা হলেও পরবর্তীতে তার বিদ্যালয়কে ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। জুড়ীর একাডেমিক সুপারভাইজার তাহমিনা চৌধুরী বলেন, এটি শিক্ষা বোর্ড থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের মতামত দেয়ার সুযোগ ছিল না।
সীমান্তঘেঁষা পরীক্ষাকেন্দ্রে জুড়ীর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির আশঙ্কা
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
