ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আধুনিক পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ, বরেণ্য চারুশিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মুস্তফা মনোয়ার। গতকাল রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
গতকাল সকালে তার মরদেহ নেয়া হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। যে প্রতিষ্ঠানটির বিকাশের সঙ্গে তার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা এবং সহকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হয়।
সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন এই গুণী শিল্পীকে। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। বিউগলের করুণ সুরে বিদায় জানানো হয় দেশের শিল্প-সংস্কৃতির এই কৃতী সন্তানকে।
শহীদ মিনার থেকে মরদেহ নেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার কর্মজীবনের আরেক স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা সেখানে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আরেকটি জানাজা। এতে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল সাড়ে ৩টায় বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তফা মনোয়ার। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ই জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেয়া হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে আবারো সংকটাপন্ন হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
