পাকিস্তানে ধসে পড়লো কোচিং সেন্টারের ছাদ, ১৪ শিশুর করুণ মৃত্যু

পাকিস্তানে ধসে পড়লো কোচিং সেন্টারের ছাদ, ১৪ শিশুর করুণ মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কয়েকজন শিশু। মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। খবর ডনের। পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খাজা ইমরান নাজির উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে মোট ২০ জন আটকা পড়েছিল। উদ্ধার করে তাদের কাহনা তহসিল সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি জানান, হাসপাতালে নেয়ার পর ১৪ শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। আহত দুই শিশুকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা বাকি চারজন আহত শিশুর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি। লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অপারেশনস ফয়সাল কামরানও নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লাহোর জেনারেল হাসপাতালের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে অন্তত আটজনের বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। এদিন সন্ধ্যায় লাহোর পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়ির মালিকসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ডিআইজি ফয়সাল কামরান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং যাদের অবহেলার প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, সম্প্রতি বাড়িটি নির্মাণকারী ঠিকাদারও আটক হওয়া ব্যক্তিদের একজন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাড়িটির একটি অংশে নির্মাণকাজ চলছিল এবং শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ছাদ ধসে পড়ে। উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে আটকে পড়া শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তিনি বলেন, শিশুগুলোর বয়স খুবই কম। দুটি কক্ষে তাদের পড়ানো হচ্ছিল। হঠাৎ ছাদের সিলিং ভেঙে পড়ে এবং তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া এধি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবনের কক্ষের ছাদ আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ধসে পড়া ছাদটি টিআর গার্ডার ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছিল।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। লাহোর জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারিক মাহমুদ জানান, ভবনটিতে একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টার পরিচালিত হতো, যা এলাকার এক নারী পরিচালনা করতেন। এদিকে আহত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক কর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় কোচিং সেন্টারে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিশু উপস্থিত ছিল। উদ্ধারকারী সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন