পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত টানা ২২তম দিনে গড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অঞ্চলটির রাজনৈতিক অবস্থান, শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদিন ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, কাশ্মীরকে আর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুশাসনের অভাব, অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং প্রশাসনিক অবহেলার প্রতিবাদেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং যোগাযোগ সীমিত করতেই কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয় নাগরিক অধিকারকর্মী সর্দার আমান খানের নেতৃত্বে আন্দোলনটি পরিচালিত হচ্ছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দুই সপ্তাহের জন্য খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে অবরোধ আরোপ করার পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। সমাবেশে সর্দার আমান খান বলেন, পাক-শাসিত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়। তার দাবি, পাকিস্তানেরই এই অঞ্চলকে বেশি প্রয়োজন, উল্টোটা নয়।
গত ৯ জুন থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) সংলগ্ন এলাকাতেও পৃথক অবস্থান কর্মসূচি চলছে। এক সমাবেশে তিনি বলেন, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে এলাকার মানুষ সহায়তার জন্য ভারতের দিকে তাকাতে বাধ্য হতে পারেন। তার মতে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অঞ্চলটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন আসবে এবং ইসলামাবাদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু বিক্ষোভকারী দাবি করছেন যে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়।
একই সঙ্গে তারা পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সমালোচনা করে স্বৈরতন্ত্র মেনে না নেয়ার ঘোষণা দেন। এদিকে এই আন্দোলন শুধু পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সমর্থকেরাও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, মুজাফফরাবাদসহ সমগ্র অঞ্চলের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
