প্রথম পর্বেই আবার মেসিময় হয়ে উঠল বিশ্বকাপ ফুটবল। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে এবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাট্রিক গোল করে নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনা দলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুর্দান্তভাবে শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু করেছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তির জানান দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির বাহিন। ম্যাচটির সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠেছেন সেই লিওনেল মেসিই।
ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে প্রথম গোল করেন মেসি। এরপর কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ম্যাচের শেষদিকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা দাঁড় করান ১৬-তে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ক্লোসা নিজেই বলেন, মেসির সামনে তার রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে। কারণ বর্তমান ফরম্যাটে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। তবে তিনি হয়তো ভাবতেও পারেননি যে, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই তার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতারা
১. মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি)- ১৬ গোল (২৪ ম্যাচ)
২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)- ১৬ গোল (২৭ ম্যাচ)
৩. রোনালদো (ব্রাজিল)- ১৫ গোল (১৯ ম্যাচ)
৪. গার্ড মুলার (পশ্চিম জার্মানি)- ১৪ গোল (১৩ ম্যাচ)
৫. জুস্ত ফন্তেইন (ফ্রান্স)- ১৩ গোল (৬ ম্যাচ)
৬. পেলে (ব্রাজিল)- ১২ গোল (১৪ ম্যাচ)
৭. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)- ১২ গোল (১৪ ম্যাচ)
৮. শান্দর কোকসিস (হাঙ্গেরি)- ১১ গোল (৫ ম্যাচ)
৯. ক্লিন্সমান (জার্মানি)- ১১ গোল (১৭ ম্যাচ)
১০. হেলমুট রাহন (পশ্চিম জার্মানি)- ১০ গোল (১০ ম্যাচ)
১১. গ্যারি লিনেকার (ইংল্যান্ড)- ১০ গোল (১২ ম্যাচ)
১২. গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (আর্জেন্টিনা)- ১০ গোল (১২ ম্যাচ)
১৩. তেওফিলো কুবিয়াস (পেরু)- ১০ গোল (১৩ ম্যাচ)
১৪. টমাস মুলার (জার্মানি)- ১০ গোল (১৯ ম্যাচ)
১৫. গজেগোজ লাতো (পোল্যান্ড)- ১০ গোল (২০ ম্যাচ)
ম্যাচের শুরুতেই ইন্টার মায়ামিতে তার সতীর্থ রদ্রিগো দে পলের নিখুঁত পাস থেকে প্রথম গোলটি করেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে করেন দ্বিতীয় গোল। এরপর মাঠ ছাড়ার ঠিক আগে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলে আর্জেন্টিনা-সমর্থকে ভরা গ্যালারি দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে সম্মান জানায়। বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, ঠিক ২০ বছর আগে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল মেসির। সেই ম্যাচেও তিনি গোল করেছিলেন। দুই দশক পর একই দিনে আবারও বিশ্বকাপে গোল করে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে যান তিনি এবং ক্লোসের পাশে নাম লেখান। এই জয় আর্জেন্টিনাকে গত বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক ভালো সূচনা এনে দিয়েছে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরে গিয়েছিল লা আলবিসেলেস্তেরা।
তবে পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বশিরোপা জিতেছিল তারা। আগামী সপ্তাহে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া মেসিকে দেখে একবারও মনে হয়নি যে বিশ্বকাপের আগে তার হালকা হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, সেটি কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচে আরও দুটি গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। একটি শট জালে জড়ালেও অল্পের জন্য অফসাইড হওয়ায় গোল বাতিল হয়। আরেকটি প্রচেষ্টা দ্বিতীয়ার্ধে ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। শুধু আক্রমণেই নয়, রক্ষণেও সক্রিয় ছিলেন মেসি। আলজেরিয়ার আক্রমণভাগকে চাপে রাখতে সতীর্থদের সহায়তা করেন তিনি। আলজেরিয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি এসেছিল ম্যাচের শুরুতে। ফারেস শাইবির করা গোলটি ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপরই মেসি গোল করেন, আর বাকি রাতটি হয়ে ওঠে তার এবং আর্জেন্টিনার দখলে থাকা এক অবিস্মরণীয় প্রদর্শনী।
