ফ্রান্স যদি বিশ্বকাপ জেতে ও দারুণভাবে আসর শুরু করে তবে কিলিয়ান এমবাপ্পেই হবেন এর স্থপতি। সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার গেল ক্লিশি বিবিসি স্পোর্টস এর ধারাভাষ্যে এমনটাই জানালেন। এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শুরুটা দেখে এমন দাবি করা অমূলক নয়। আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ধুঁকতে থাকা ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়ালো এমবাপ্পের হাত ধরেই। শুধু ঘুরে দাঁড়ানোই নয়, জোড়া গোল করে গড়েছেন একাধিক রেকর্ড। ২৭ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ফ্রান্সকে এনে দিয়েছেন ৩-১ গোলের দুর্দান্ত এক জয়। সেই সঙ্গে নেয়া হলো দুই যুগ আগে সেনেগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের প্রতিশোধ। ২০০২ বিশ্বকাপে তেরাঙ্গার সিংহদের কাছে ১-০ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে ফ্রান্স।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফেবারিটের তকমা গায়ে মেখে খেলতে নামা ফরাসিদের শুরুটা ভালো হয়নি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তারকাবহুল ফ্রান্সকে অচেনাই লাগছিল। একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে চমকের আভাস দেয় সেনেগাল। প্রথমার্ধে ৫৭ শতাংশ বল দখলে রাখা ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। ২৫ মিনিটে দিউফের পাস থেকে বল পেয়ে উপামেকানোকে কাটিয়ে এগিয়ে যান নিকোলাস জ্যাকসন। সেনেগালিজ এই ফরোয়ার্ডের জোরালো শট পোস্টে লেগে গোলরক্ষক মাইগনানের পিঠে ধাক্কা খেয়ে কর্নার হয়ে যায়। নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায় ফ্রান্স! বোঝাপড়ার ঘাটতিতে প্রথমার্ধে ফ্রান্স লক্ষ্যে কোন শট নিতে পারেনি। অবশ্য ডি বক্সের ভেতরে ইসমাইলা সারে সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে বিরতির আগে এগিয়ে যেতে পারতো সেনেগাল। ছয় গজ দূর থেকে সারের নেয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ছন্দময় ফুটবল উপহার দেয় ফ্রান্স। বিশেষ করে এমবাপ্পে ফেরেন স্বরূপে। এটিই সেনেগালের কাল হয়ে দাঁড়ায়। ৫৯ মিনিটে ডি বক্সেও মধ্যে এমবাপ্পেকে ফাউল করে বসেন সেনেগালের সাদিও মানে। রেফারি আলিরেজা ফাগানি বাঁশি বাজাননি। ভিআর এ বারবার রিপ্লে দেখেও সিদ্ধান্ত বদলাননি তিনি। অবাক করা এ সিদ্ধান্তের সাত মিনিট পরও ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে। ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের এসিস্ট থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন। এটি জাতীয় দলের জার্সিতে ফরাসি অধিনায়কের ৫৭তম গোল। এরপর কোচ দেশম ৭৯ মিনিটে উসমান দেম্বেলের পরিবর্তে ব্র্যাডলি বারকোলাকে মাঠে নামান। মাঠে নামার তিন মিনিট পর আদ্রিয়েঁ রাবিওর থ্রু পাস ধরে মেন্ডির মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে ব্যবধান ২-০ করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ইনজুরি টাইমে নাটকীয়তা বাড়ে। ইব্রাহিমা এমবায়ে সেনেগালের হয়ে এক গোল শোধ দেন। এর দুই মিনিট পরই এমবাপ্পে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেনেগালের ড্র’য়ের আশা চূর্ণ করে দেন। বক্সের বাইরে থেকে এমবাপ্পের দূরপাল্লার অসাধারণ শটটি সরাসরি জালে জড়ালে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের। এই গোলের মধ্য দিয়ে অলিভিয়ের জিরুকে (৫৭ গোল) টপকে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন এমবাপ্পে (৫৮ গোল)। এছাড়া বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা এখন ১৪। এ গোল করতে এমবাপ্পে খেলেছেন ১৫ ম্যাচ। আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসির ১৩ গোল করতে লেগেছে ২৬ ম্যাচ। আর তিন গোল করলে এককভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়বেন এমবাপ্পে। ১৬ গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজা। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স ৫৪ শতাংশ বল দখলে রাখে এবং গোলের জন্য ৮টি শট। বিপরীতে সেনেগাল ২বার লক্ষ্যে শট নিতে সক্ষম হয়।
২৪ বছর পর প্রতিশোধ
এমবাপ্পের জোড়ায় সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফ্রান্সের শুভসূচনা
হাছিবুল বাসার
খেলা
১ ঘন্টা আগে
১৭ জুন (বুধবার), ২০২৬, ৪ঃ৩১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
