ভবানীপুরের ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে গেলেন মমতা

ফন্ট সাইজ:

পরাজয়কে কোনো সময়েই স্বীকার করতে রাজি নন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর দু’বার ভোটের ফলে পরাজিত হয়েও হার মানতে চাননি মমতা। দু’টি ক্ষেত্রেই বিরোধী একজনই, সেই শুভেন্দু অধিকারী। একুশের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ভোটে জয়ী হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নন্দীগ্রামের সঙ্গে ভবানীপুরেও ব্যাপক ব্যবধানে হারিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে। এবার ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী ফল প্রকাশের দেড় মাস পরে সেই ফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই হাইকোর্টে পৌঁছে যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হলফনামা দাখিল করেন তিনি।

একুশের নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারের পর ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলেন মমতা। সেই মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ফের ভোটের ফল নিয়ে আইনি পথে হাঁটলেন ‘হার না মানা’ মমতা। মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল নেত্রীকে কলকাতা হাইকোর্টে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল দেখা যায় অনেকের মধ্যেই। পরে মমতার আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর কেন্দ্রের ফল নিয়ে ইলেকশন পিটিশন করেছেন তিনি। জানা গেছে, ওই সংক্রান্ত বিষয়েই এদিন হলফনামা দাখিল করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন কুনাল ঘোষ ও দোলা সেন। মমতার ইলেকশন পিটিশন দাখিল প্রসঙ্গে আইনজীবী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভবানীপুরে ভোটের ফলে কারচুপি হয়েছে। ১২ রাউন্ডের পর তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টকে মেরে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “২০২১-এ নন্দীগ্রামে যিনি রিটার্নিং অফিসার ছিলেন, ২০২৬-এ তাকেই ভবানীপুরে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। ভোট মিটতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ডেপুটি সেক্রেটারি হয়ে গিয়েছেন। আবার নির্বাচন কমিশনের সিইও বর্তমানে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। পরপর একাধিক ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে, নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে প্রভাবিত হয়েছে।” গত ১৪ই মেও কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার সওয়াল করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন হাইকোর্টে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে। এজলাস থেকে মমতা বেরুনোর পরই তাকে ঘিরে তুমুল বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় আদালত চত্বরে। মমতাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। সেই ঘটনার প্রায় ১ মাস পর সোমবার ফের কলকাতা হাইকোর্টে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন