ঘানার নতুন স্বপ্ন সামনে পানামা

ঘানার নতুন স্বপ্ন সামনে পানামা

ফন্ট সাইজ:

৮৮ হাজার দর্শকে ঠাসা গ্যালারি। প্রার্থনায় ঘানা। মাত্র একটা জয়। তাতেই ইতিহাস গড়বে দলটি। উরুগুয়েকে হারালে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে ব্ল্যাক স্টাররা। কিন্তু লুইস সুয়ারেজের বিতর্কিত হ্যান্ডবল, আসামোয়া জিয়ানের পেনাল্টি মিস এবং টাইব্রেকারের হতাশায় জন্ম নেয় আফ্রিকান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাবিধূর অধ্যায়। ২০১০ বিশ্বকাপের সেই ক্ষত ঘানার ফুটবল-স্মৃতিতে তাজা। ১৬ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ মঞ্চে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নামছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। টরন্টো স্টেডিয়ামে আগামীকাল ভোর পাঁচটায় ‘এল’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পানামা। গ্রুপে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দল থাকায় নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখতে দু’দলের কাছেই ম্যাচটি প্রায় ফাইনালের সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ঘানার ডাগআউটে রয়েছেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লোস কুইরোজ। টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে অংশ নিয়ে রেকর্ডের ভাগীদার হয়েছেন। পর্তুগাল ও ইরানের পর এবার তার মিশন ঘানাকে আবার বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে পরিণত করা। তবে শুরুতেই ধাক্কা লেগেছে ঘানাইয়ান শিবিরে। মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসা থমাস পার্টে ভিসা জটিলতার কারণে কানাডায় অনুষ্ঠিত পানামা ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এছাড়া মোহাম্মদ কুদুসও চোটের কারণে বাইরে রয়েছেন। ফলে আক্রমণভাগে আঁতোয়ান সেমেনিও ও জর্ডান আয়ুর ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। পার্টি-কুদুসকে ছাড়াও আত্মবিশ্বাসী কুইরোজ। তিনি বলেন, ‘আপনার হাতে দুর্দান্ত সব অস্ত্র (খেলোয়াড়) থাকলে সব সম্ভব।’

অন্যদিকে পানামা আর আগের সেই অনভিজ্ঞ দল নয়। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর তারা ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৮১ থেকে ৩৪ নম্বরে উঠে এসেছে তারা। মধ্য আমেরিকার দলটি ২০২৫ কনকাকাফ নেশনস লীগে রানার্সআপ হয়। কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেনের অধীনে আদালবার্তো কারাসকিয়া ও ইসমায়েল দিয়াজদের নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের তিন ম্যাচেই হেরেছিল পানামা। তবে এবার প্রথম জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দলটি। আর পানামা ফরোয়ার্ড ইসমায়েল দিয়াজ বলেন, ‘আমরা কাউকেউ ভয় পাই না।’

নজর থাকবে যাদের দিকে
কুদুসের অনুপস্থিতিতে ঘানার সবচেয়ে বড় ভরসা আঁতোয়ান সেমেনিও। জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ গোল করেছেন। এফএ কাপ ফাইনালে চেলসির বিপক্ষে জয়সূচক গোলও এসেছে তার পা থেকে। গতি, শক্তি এবং বক্সের ভেতরে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাকে ম্যাচের সম্ভাব্য পার্থক্য গড়ে দেওয়া খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। পানামার মস্তিষ্ক আদালবার্তো কারাসকিয়া। মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ইসমায়েল দিয়াজ ২০২৫ গোল্ড কাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন