দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সীমান্তের সমান্তরালে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ থাকা সীমানা পুনঃনির্ধারণ করতে যাচ্ছে সিউল। নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বেসামরিক নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকা অঞ্চলের পরিমাণ কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে বুধবার জানান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তথাকথিত এই ‘বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা’ (সিভিলিয়ান কন্ট্রোল লাইন) বর্তমানে ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ শেষে নির্ধারিত সামরিক সীমান্ত রেখা (এমডিএল) থেকে দক্ষিণ দিকে ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই এলাকায় প্রবেশ করতে হলে সামরিক বাহিনীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, সামরিক সীমান্ত রেখা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের প্রবেশাধিকারের এই সীমানা গড়ে ৬ কিলোমিটার সরিয়ে নেয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অনুরোধ এবং সামরিক বাহিনীর উন্নত প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির কারণে এই পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই জোনের ভেতরে বসবাস করেন। এর বাইরে অন্য অনেকে চাষাবাদ বা অন্যান্য কাজের জন্য অনুমতি নিয়ে এই এলাকায় প্রবেশ করে থাকেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সীমান্ত এলাকার ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ শিথিলেরও ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে কৃষিকাজে ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন সংক্রান্ত নির্দেশিকা শিথিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত বছর দায়িত্ব নেয়া প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং-এর উদারপন্থী সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও পিয়ংইয়ং তার প্রতিবেশী দেশের প্রতি বৈরী মনোভাব বজায় রেখেছে।
