দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কোনো অপরাধ করলেও সেটা যেভাবে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়, বিএনপি সরকারের কোনো ভালো কাজ সেভাবে প্রশংসা পায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সমপ্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১৬ই জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)।
অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক সময় দেখি, বিএনপি’র অমুক কর্মী অমুক ইউনিয়নের অমুক উপজেলার অমুক ওয়ার্ডে একজনকে চড় মেরেছে। সেটা হেডলাইন নিউজ হয়ে যায়। কিন্তু ২২ লাখ ছাত্রছাত্রী প্রাইমারি স্কুলের ফুটবল খেলে একটি বিশাল প্রতিযোগিতা হচ্ছে। সেটা কিন্তু কয়েকজনের পত্রিকায় ছাড়া দেখা যায় না।
গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে সরকারের ভালো দিকগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তখন জনগণ বুঝতে পারবে, ফ্যাসিজমের বাইরে যারা আছেন, তারাও ভালো কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদেরও দায়িত্ব আছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মালিকেরা আছেন, যারা বিগত সরকারের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ছিলেন। কাজেই সেইসব ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সাংবাদিক ভাইরা যদি সরকারের ভালো দিক, ভালো কথা উল্লেখ করে তুলে ধরেন, সেটাই হবে সাহসী সাংবাদিকতা। ফ্যাসিবাদ রুখতে ও দেশের উন্নয়নে গণমাধ্যম এবং সরকারকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের গভীর আত্মসমালোচনার সময় এসেছে। মালিকানার রাজনীতি দূর, কালো আইন বাতিল, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের আমূল সংস্কার জরুরি। কারণ, সাংবাদিকতার প্রথম ও শেষ আনুগত্য হলো সত্য ও জনগণের প্রতি।
প্রধান আলোচক হিসেবে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে অনেক গণমাধ্যম মুষ্টিমেয় কিন্তু অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে আছে। তাদের অলিগার্ক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘অলিগার্কদের মিডিয়া কীভাবে কন্ট্রোল করবো, সেটা তো আমরা জানি না। কারণ, অলিগার্করা তাদের নিজেদের স্বার্থেই মিডিয়া বের করেন, এটা আপনারা সবাই জানেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের (বিএজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ। আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ, আরটিভি’র বার্তা প্রধান ইলিয়াস হোসেন, সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ।
