রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বকেয়া বেতনসহ সাত দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে নাসা গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সংশ্লিষ্ট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর মহাখালী-তেজগাঁও সংযোগ সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় পোশাক শ্রমিকরা।
জানা যায়, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা লাভ রোডের পাশের প্রধান সড়কে নেমে আসেন। শ্রমিকরা সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মূল সড়কের দুই পাশে যানবাহন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক মহাখালী ও তেজগাঁও সংযোগ সড়কের উপর বসে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
বিক্ষোভরত গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের পাওনা আদায়ে সাতটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- চলতি বছরের গত মে মাসের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির টাকা প্রদান। ডিসেম্বর-২০২৫ এর বকেয়া এরিয়া বিলের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে। নোটিশ পে-বিল পরিশোধ করতে হবে। প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ মাস তথা ১২০ দিনের বেতন-ভাতা অগ্রিম পরিশোধ। শ্রম আইন অনুসরণ করে সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট ১০০ শতাংশ পরিশোধ। শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হয়রানি (যেমন: পুলিশি মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার) করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, সকাল ১০টার পরপরই শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে তেজগাঁও-মহাখালী সড়কের লাভ রোড সংলগ্ন পয়েন্টে নামেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার অবরোধ করেন। প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক সড়কে অবস্থান করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। তারা দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়কে অবস্থান করছিলেন।
