ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (র.) মাজারকে নিয়ে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। আর এই প্রকল্পের মধ্যদিয়ে সিলেট উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু করবে এ সংস্থাটি। মঙ্গলবার মানবজমিনকে এ তথ্য জানিয়েছেন সিউকের নতুন চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানিয়েছেন- সিউক সিলেটে এখনো নতুন। কোনো কার্যক্রমও শুরু করা হয়নি। ফলে সিলেটে এই সংস্থার কার্যক্রম মাজারের উন্নয়ন দিয়ে শুরু করতে চান। এ নিয়ে সিলেটের মন্ত্রীর সঙ্গে গতকালই তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানান। সিলেটের দরগাহ পরিচালনা নিয়ে গেল কয়েকদিন ধরে হৈচৈ চলছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে দরগাহের আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ সংক্রান্ত একটি পত্র জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলমের কাছে আসা মাত্র তিনি দরগাহের সার্বিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন। এরইমধ্যে দরগাহের দানবাক্সের আয় ও ব্যয়ের খাতের হিসাব চেয়েছিলেন দরগাহ কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু সঠিকভাবে হিসাব না দেয়ায় জেলা প্রশাসকের তরফ থেকে হিসাব রাখতে ওয়াক্ফ এস্টেটের দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক নিজেও দরগাহ পরিদর্শন করেছেন। দানবাক্সের হিসাব রাখতে প্রশাসনের তালা দেয়া হয়েছে। এই অবস্থায় দরগাহ, মসজিদ ও মাদ্রাসা সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসক সভার আহ্বান করেন। ওই সভায় মাদ্রাসার পক্ষে মুহতামিম মাওলানা মাসুক উদ্দিনসহ দরগাহ ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সিউকের চেয়ারম্যান কয়েস লোদীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক দরগাহ এলাকার উন্নয়নের সকলের মতামত চান। তবে এ সময় তিনি দরগাহ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। বলেন- দরগাহ’র আয়ের একটি টাকাও সরকার নিতে চায় না বা নিচ্ছেও না। ভবিষ্যতেও নেবে না। তবে আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকা এবং আয় থেকে উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা প্রয়োজন। সার্বিক বিষয়ে স্বচ্ছতা আনতে সরকার এ নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন- দরগাহ নিয়ে মেগা প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চায় সরকার। দরগাহে একটি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি সব খাতেই উন্নয়ন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বক্তব্য রাখেন। মসজিদ কমিটির সিনিয়র সদস্য জুবায়ের আহমদ চৌধুরী নতুন করে মসজিদ নির্মাণ ও আধুনিক সৌচাগার নির্মাণের দাবি তোলেন। তবে মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষে উপস্থিত কয়েকজন মাজারের দানবাক্সসহ নানা খাতে হস্তক্ষেপের আপত্তি তোলেন।
বলেন- ৭০০ বছর ধরে মাজার যেভাবে চলছে সেভাবেই চলার নিয়ম। এখানে অতীতে কেউ হস্তক্ষেপ করেননি। এজন্য বর্তমান প্রশাসনকে এ ব্যাপারে আরও নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান তারা। বৈঠকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এদিকে বৈঠকে আলোচনা ক্রমে কয়েকটি সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাজারের অনেক ভূমিই বেহাত হয়ে গেছে। অনেকেই দখল করেও রেখেছেন। এই অবস্থায় মাজারের জায়গা চিহ্নিত করে উদ্ধার, দরগাহসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা রাখা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সব কিছুকে তদারকির মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সম্বলিত বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, জাদুঘর ও লাইব্রেরি তৈরি, গণশৌচাগার নির্মাণ, পার্কিংয়ের স্থান নির্মাণ করা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা সিউকের চেয়ারম্যান কয়েস লোদীকে এ ব্যাপারে একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণে জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় কয়েস লোদী তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন- সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি নিজেও সিউকের প্রথম প্রকল্প হিসেবে দরগাহের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে আগ্রহী বলে জানান। বিকালে মানবজমিনের কাছেও এ পরিকল্পনা দ্রুত গ্রহণের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বলেন- দরগাহের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছিলেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। এবার আমরা চাই দরগাহ এলাকায় আধুনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। এজন্য খুব দ্রুতই মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হবে বলেও জানান।
