বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে চিঠি

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে চিঠি

ফন্ট সাইজ:

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে 
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই দিনে বেনজীরের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নথি ও তথ্য সংগ্রহে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যায় ইন্টারপোলের স্থানীয় সমন্বয় সংস্থা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)- বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। দুপুরে এনসিবি’র দুই সদস্যের একটি টিম দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এনসিবি বাংলাদেশের দুই প্রতিনিধি মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে যান। সেখানে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র প্রস্তুত করেছে দুদক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হয়। সেই সময়সীমা বিবেচনায় নিয়েই দ্রুততার সঙ্গে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বেনজীরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলার নথিপত্র চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের আইনি ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ধারা। এসব নথি যাচাই বাছাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। কারণ নথিপত্রে ত্রুটি থাকলে বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর বেনজীর আহমেদের অবস্থান শনাক্ত হয়। পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর দেশটির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর বিষয়ে জানায়। এরপর থেকেই দুদক, পুলিশ সদর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করে।

দুদক সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলাটির বিচারও চলছে। অন্য পাঁচটি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এসব মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায়ও জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন বেনজীর আহমেদ। বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর গত বছর বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন