পুলিশের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষজনের মনে। অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নেতিবাচক কর্মকান্ডে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। কর্তব্যকাজে অবহেলা, অপেশাদার আচরণ ও অসদাচরণের অভিযোগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ১১ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ জুন কোতোয়ালী থানায় সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং থানায় সংরক্ষিত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মো. রাকিবুজ্জামান রাকিব, সিরাজুম মুনিরা মৌফি ও রুমন বাবুর সঙ্গে সংঘটিত ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের কর্তব্যকাজে ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অদক্ষতা, অপেশাদার আচরণ এবং অসদাচরণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত সদস্যদের আচরণের কারণে ভুক্তভোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ রানা, মো. আলম বাদশাহ ও মো. আকতারুল ইসলাম; এএসআই (নিরস্ত্র) মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আরিফুল ইসলাম ও মোছা. মেহেরুন নেসা; এবং কনস্টেবল মো. মোস্তাকুর রহমান খন্দকার, মো. মোখলেছুর রহমান (মামুন), মো. রাকিব আহমেদ, লিমা সরেন ও ভাবনা রানীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগসমূহের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) এর ৮৮০ বিধি এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারার বিধান অনুযায়ী ওই ১১ সদস্যকে গত ১১ জুন অপরাহ্ন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তারা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।
এ বিষয়ে আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আরপিএমপি ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
