তাহিরপুরে এতিম শিশুকে পাশবিক নির্যাতন, আটক দুই কিশোর

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সাত বছরের এক এতিম শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলো উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কলাগাঁও পশ্চিমপাড়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে শাকিব মিয়া (১২) এবং একই গ্রামের রনি মিয়ার ছেলে রিসান মিয়া (১৩)।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ পেয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত দুই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা আগে মারা গেছেন। মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে বসবাস করে। গত বৃহস্পতিবার দুই কিশোর শিশুটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে কলাগাঁও নদীর পাড়ের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার পর স্থানীয় ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তদের পরিবার ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বা জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়ে স্থানীয় বাজারের এক পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নানার বাড়িতে রেখে আসা হয়। তবে গত দুই দিন ধরে শিশুটির রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শনিবার সকালে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুই কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়।

কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদ আলম সাদ্দাম বলেন, দুই দিন আগে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তদের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত দুই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন