চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে চলছে দখলের এক নীরব মহোৎসব। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা, সরকারি পুকুর ও জলাশয় দখল করে প্রভাবশালী মহল গড়ে তুলছে দোকানপাট, গ্যারেজ ও স্থায়ী স্থাপনা। এতে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে গিয়ে বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সরজমিন দেখা যায়, বাড়বকুণ্ড থেকে কুমিরা, ভাটিয়ারী, সোনাইছড়ি, ফৌজদারহাট হয়ে চট্টগ্রাম সিটি গেট অতিক্রম করে দারোগাহাট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলছে দখল ও ভরাট কার্যক্রম। সড়কের পাশের নালা ও সরকারি পুকুর ভরাট করে কোথাও দোকান, কোথাও বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের অংশও দখল হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দখলের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের ছত্রচ্ছায়া। ফলে প্রশাসনের নীরবতায় প্রকাশ্যেই দখল চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, দিনের আলোতেই ভরাট ও দখল চলছে, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই হয়রানির শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কের পাশে এভাবে অবৈধ দখল অব্যাহত থাকলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে। পাশাপাশি নালা ও জলাধার ভরাটের কারণে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে মহাসড়ক ও সরকারি সম্পদ দখলমুক্ত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
সীতাকুণ্ডে মহাসড়কের পাশে দখলের মহোৎসব
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১৮ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
