প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বয়োবৃদ্ধ ইনু মিয়া। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়ে কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি তিনি। সেই থেকে রাগে, ক্ষোভে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত এবং বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম এমপি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর ভাত খাবেন না। তিনি তার কথা রেখে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরেও আর কোনোদিন ভাত খাননি। অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করায় তার মনের আশা পূরণ হয়েছে। শরীফুল আলমও এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে ইনুকে ভাত খাওয়াতে তার বাড়িতে যান কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের আনন্দঘন পরিবেশে ইনুর পরিবারের সদস্য এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য জনসম্মুখে ভাত খেলেন তিনি। ইনু মিয়া (৮০) উপজেলার পশ্চিম জগৎচর গ্রামের মৃত সোলাইমান মিয়ার পুত্র ও তিন সন্তানের জনক। স্ত্রী জোসনা খাতুন। বড় ছেলে ইকবাল হোসেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। ছোট ছেলে জাকির হোসেন জুতার কারিগর। মেয়ে মার্জিয়া খাতুনের বিয়ে দিয়েছেন। কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনায় তার বাঁ পায়ে আঘাত পান। আঘাত পাওয়ার পর থেকে লাঠিতে ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেন। ইনুকে ভাত খাইয়ে দেয়ার পর উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে শরীফুল আলম বলেন- তৃণমূল পর্যায়ের এই ধরনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কারণেই বিএনপি আজকের পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন- যে ব্যক্তি দলকে ভালোবেসে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন আমাদের উচিত তার পাশে থাকা। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন অচিরেই ইনুকে একটি নতুন ঘর করে দিবেন এবং একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট মশিউর রহমান- উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী, সাধারণ সম্পাদক এম.এ হান্নান, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলমসহ কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন। ইনুর স্ত্রী জোসনা খাতুন বলেন- তাকে অনেক চেষ্টা করেও ভাত খাওয়াতে পারিনি। আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে নিয়েও ভাত খাওয়াতে পারিনি। তার একটাই কথা যতদিন না বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ততদিন ভাত খাবেন না। রুটি, পুরি, বিস্কুট, চা এগুলো খেয়ে বেঁচে ছিলেন।
১৭ বছর পর ইনুকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Shahab
১ মাস আগেI salute mr. Inu. Almighty bless you and your family.