তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ জন্য গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শিগগিরই আলোচনা করা হবে। সরকার সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইআরএফ কার্যালয়ে ‘নাগরিক প্ল্যাটফরম ও ইআরএফের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টকে আমরা পুনর্মূল্যায়ন করতে চাচ্ছি, সবার জন্য নিরাপত্তা বিধান প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছি, মিডিয়া রিফরমস কমিশনকে বৃটিশ অফকম সিস্টেমের আদলে পুনর্গঠনের চিন্তা চলছে। হত্যা, মিথ্যা মামলা, গুমসহ সব ধরনের নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য ন্যায্য প্রতিকারের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনতে চাচ্ছি, অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অন্য ভাতা সিস্টেম চালু করতে চাচ্ছি। তিনি বলেন, বড় বড় অপরাধ করার জন্য বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। বয়ানের কারণে সেই অপরাধ জাস্টিফাই হচ্ছে। পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্রনায়করা গণমাধ্যম ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যম কাজে লাগিয়ে অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, যে সময় তথ্য মন্ত্রণালয় জন্ম নিয়েছিল তখনকার তথ্যের সংজ্ঞা আর এখনকার তথ্যের সংজ্ঞা আকাশ পাতাল পার্থক্য। তখন তথ্য বলতে ছাপার অক্ষরে লেখা হলে ওইটায়। এখন পুরো ব্যাপারটা অন্য। নতুন নতুন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ক্ষমতা খারাপ ভালো দুই ধরনের লোকই ব্যবহার করতে পারেন।
ফ্রিডম ও রেস্পন্সিবিলিটির কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যেকোনো স্বাধীনতা ও নৈরাজ্যের মধ্যে ব্যবধান থাকতে হবে। সঠিক স্বাধীনতা দ্বারা যে আক্রান্ত হবেন তিনি বলবেন এটা নৈরাজ্য, যেটা আসলেই নৈরাজ্য যে বলবে এটা স্বাধীনতা। এর সমাধান কী সেই প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী।
সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, মিডিয়া রিফর্ম, নির্যাতিত সাংবাদিকদের সব ধরনের ফ্রেমওয়ার্ক দাঁড় করাতে চাচ্ছি।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ সমালোচনা, সর্বোচ্চ অনুসন্ধানী মন্তব্য তুলে ধরলে সরকারের অনেক বড় উপকার হবে। রিফর্ম ট্র্যাকার খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাকানিজম। ডিসিশন ম্যাকিংয়ে এর ব্যবহার অনেক কাজে আসবে।’ বিজ্ঞাপনের নীতিমালা নির্ধারণ হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব নিয়ে অঘোষিতভাবে খুব সমষ্টিগতভাবে প্রতারণা চলছে। এসব নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা সম্পাদনে এরইমধ্যে কাজ করা হচ্ছে।’
দুই ধরনের সাংবাদিকতার উল্লেখ করে নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, আমাদেরকে লিপ্ততার সাংবাদিকতা বেছে নিতে হবেÑ যেখানে সকল অনিয়ম-অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখবেন সংবাদিকরা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতির সংকটকালে সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিজম করার দরকার আছে। তবে সেটা যাতে দলীয়করণ না হয় সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, আমি হতাশ, কারণ আমি এর অংশ ছিলাম। কমিশনের প্রতিবেদন ২০২৫ সালের মার্চে প্রদান করেছি। সে সময়ের সরকার প্রধান ড. ইউনূস আমাদের কাছে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো আলাদাভাবে দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু সেগুলো দেয়ার পরও এতটুকু সংস্কারও হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে পত্রিকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। বিজ্ঞাপনের হার কমে গেছে। এই প্রেক্ষিতে সরকার যদি কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংস্কারগুলো করে তাহলে আমাদের মিডিয়ার আধুনিকায়ন হবে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, ২০১৩ সালে ৮ম বেতন কাঠামো নির্ধারণের পর এতে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা এর মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংস্কার চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
১০ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
