তেজগাঁওয়ে অবরোধ

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে সড়ক ছাড়লো শ্রমিকরা

ফন্ট সাইজ:

বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোড অবরোধ করেছেন নাসা মেইনল্যান্ড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল সকালে মহাখালী-নাবিস্কোর মধ্যবর্তী এলাকায় প্রায় ৭০০-৮০০ পোশাক শ্রমিক সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় আশপাশের পুরো এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

এর আগে রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে নিজেদের পাওনা বেতনের দাবিতে তেজগাঁও লিংক রোড অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন পোশাক শ্রমিকরা। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থানের পর সোয়া ১১টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে তাদের কর্মরত পোশাক কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। তবে কর্মব্যস্ত সকালে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ হওয়ায় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ বাধ্য হয়ে সড়কে ডাইভারশন শুরু করে। রাস্তার যান চলাচল সামাল দিতে যখন হিমশিম খাচ্ছিল ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা, ঠিক তখনই আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন দুই মন্ত্রী। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আমরা আগামীকাল সকাল ১১টায় শ্রমিক প্রতিনিধি, নাসা মেইনল্যান্ডের মালিকপক্ষ এবং বিজিএমইএ সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভার আহ্বান করেছি। বিষয়টি নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। এমন একটি সমাধান বের করা হবে, যাতে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং মালিকপক্ষও তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক শ্রমিকদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় অন্য সময়ের মতো রাস্তা অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আপনারা জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা ছেড়ে দিন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই এবং আপনাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় নাসা মেইনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে তাদের ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পদ জব্দ থাকায় কারখানা পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তাই শ্রমিকদের পাওনা ‘আর্নড লিভ’ এর টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করছি। তবে তারা মার্চ মাসের বেতন পরিশোধে সক্ষম বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দেন।

Md. Nazrul Islam

২ মাস আগে

Good initiative

মন্তব্য করুন