বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার দেশের সীমান্তবর্তী সকল জেলায় এবং সীমান্তবর্তী পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এ ছাড়া সারা দেশে খুন, ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রতিবাদে আগামী সোমবার রাজধানীর শাহবাগের হাদি চত্বরে বিক্ষোভ করবে তারা। গতকাল দুপুরে মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্তে হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান পরিস্থিতি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সীমান্তে হত্যার যে চিত্র দেখা যায়, সেটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি বলেন, ভারতের বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে ২৬ জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতিবেশীমূলক আচরণ না করে বাংলাদেশের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে যাচ্ছে। তারা বলে ভারতের ডিকশনারিতে পুশইন বলে কিছু নেই। তবে তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে জোরপূর্বক অনেক লোক ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করেছে। বিজিবি’র সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে ভারত এতদিনে তাদের দেশের অনেক নাগরিককে এদেশে পুশইন করতো। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় পুশইন হয়েছে।
পত্রিকার খবরের বরাতে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত তিন মাসে ৫০ এর অধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে পুশইন করার চেষ্টা হয়েছে। তবে বাস্তব সংখ্যা এর দ্বিগুণ।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপি সরকারের ১০০ দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ২৪ জন। বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ৮৩ জনকে আটক করে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে মন্তব্য করার সময় মনে রাখতে হবে, তারা বাংলাদেশের মন্ত্রী। এক্ষেত্রে তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বয়ানটা হয়ে গেছে ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো। বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন, সেটি বিশ্বাস করা কঠিন। সরকারকে ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তে নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পুশইন ঠেকাতে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের জনগণকে মানবপ্রাচীর গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো সন্ত্রাসী, চোরাকারবারি বা অপরাধী সেই প্রাচীর ভেদ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।
তিনি বলেন, ভারতকে ১২টি চিঠি দেয়ার পরও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এজন্য সরকারকে সঠিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে হবে। সরকার এরপর চিঠি পাঠালে যেন শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা উল্লেখ করে।
৩২টি জেলার সীমান্তে একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানবপ্রাচীর করা হবে উল্লেখ করে এনসিপি’র এই নেতা বলেন, ১৯৭১ সালে যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, একইভাবে এখন সীমান্তে যদি কোনো রাষ্ট্র বা বাহিনী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে লঙ্ঘন করতে চায়, তাহলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মহাসচিব ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক প্রমুখ।
