নবীগঞ্জে চ্যাঞ্চল্যকর ফেরদৌসী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। পুত্রবধূর পরকীয়ার জেরে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামড়ির পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন পুত্রবধূর সঙ্গে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন ফেরদৌসী চৌধুরী। তিনি ওই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তার পুত্র দুবাই প্রবাসী রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে লামড়ীর পাড়ের নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার হাত-পা বাঁধা এবং মুখে স্কস্টেপ লাগানো ছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। এরপর মঙ্গলবার সকালে গৃহবধূ তামান্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে জানায়, টিকটকের সূত্র ধরে সুনামগঞ্জ জেলার এক ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রোববার দিবাগত রাতে পরকীয়া প্রেমিক তার দু’জন বন্ধুকে নিয়ে দেখা করতে আসে। একপর্যায়ে তারা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চায়। ঘটনার সময় ফেরদৌসীর ঘুম ভেঙে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এসময় তামান্না, পরকীয়া প্রেমিকসহ কয়েকজন মিলে তার হাত-পা বেঁধে এবং মুখে স্কস্টেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফারুক মিয়া বাদী হয়ে তামান্না আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিকসহ ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম বলেন, পুত্রবধূকে আটক করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ওই গৃহবধূ আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
