লক্ষ্মীপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রণয়নের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে চলছে সেই পুরনো ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ আর পকেট রাজনীতি। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন পরিবর্তনের পর সুষ্ঠু বণ্টনের আশা থাকলেও বর্তমানে অবস্থা দাঁড়িয়েছে ‘যেই লাউ সেই কদু’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর, রামগঞ্জ, রায়পুর ও পৌরসভাসহ জেলার ৫টি উপজেলায় চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি দুঃস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করতে হবে। কিন্তু ১০ কেজির পরিবর্তে ৭/৮ কেজি দিয়ে থাকেন। অন্য দিকে একই পরিবারে একাধিক কার্ড দেয়া যাবে না। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এই নির্দেশনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।
মাঠপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো কার্ড ভাগ করে নিচ্ছেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চাল বিতরণের জন্য সরকারি চিঠির মাধ্যমে প্রত্যেক ইউনিয়নের বিএনপি’র সভাপতিদের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হিসেবে তালিকা তৈরি ও চাল বিতরণের জন্য দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। অন্যান্য ইউনিয়নের চিত্রও প্রায় একই।
অনেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স্থানীয় দলীয় নেতাদের সন্তুষ্ট করতে কার্ড আগাম দিয়ে দিয়েছেন। নীতিমালার ৫ ও ৬ নম্বর শর্তানুযায়ী ভূমিহীন, দিনমজুর বা নারী শ্রমিকের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকলেও, দলীয় প্রভাবে প্রকৃত বঞ্চিতরা বরাদ্দের বাইরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এই বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমাকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন তিনি রিসিভ করেননি।
