বৃটিশ এয়ারওয়েজ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে অনিশ্চয়তার কারণে মে মাসের শেষ পর্যন্ত সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এয়ারলাইনটি সোমবার ঘোষণা করেছে যে, তারা ৩১ মে পর্যন্ত বাহরাইন, দুবাই, তেল আবিব এবং জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না। দোহার ফ্লাইট ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত থাকবে এবং আবু ধাবির ফ্লাইট অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল রয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সাম্প্রতিকতম ফ্লাইট বাতিলের সম্প্রসারণ হিসেবে এসেছে। কারণ উপসাগরীয় সংঘাত নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বিমানপথ বন্ধের কারণ হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার কয়েক ঘন্টা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ একটি ইরানি ড্রোন হামলায় সেখানে জ্বালানী ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। ফায়ারফাইটার এবং জরুরি সেবার কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রদর্শিত ছবিতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। তবে কেউ আহত হননি। মার্কিন ঘাঁটি, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ২৮শে ফেব্রুয়ারির হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে এই হামলা চালাচ্ছে ইরান। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই হামলা তাদের নিরাপদ, কম কর এবং উচ্চ বৃদ্ধির দেশ হিসেবে খ্যাতি ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। তারা তাদের জনসাধারণের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে এবং পর্যটক ও প্রবাসীদের সতর্ক করেছে যে সংঘাত সম্পর্কিত কোনো কন্টেন্ট প্রকাশ করলে তাদের জেল হতে পারে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯০০-এর বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে একজন লন্ডনের ৬০ বছর বয়সী পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত। দোষী প্রমাণিত হলে তার দুই বছরের জেল হতে পারে। তার পরিবার চরমভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে। দুবাইতে ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া তিন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। কারণ তারা ক্ষয়ক্ষতির ছবি তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতারে দুই শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে একই ধরনের আইনের আওতায় চার্জ করা হয়েছে। এ কথা জানিয়েছে ডিটেইন্ড ইন দুবাই নামে একটি সক্রিয় গোষ্ঠী। কয়েক বছরে হাজার হাজার বৃটিশ নাগরিক উপসাগরে চলে গেছেন কম কর সুবিধা ভোগের জন্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৬৩ হাজারের বেশি বৃটিশ নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরেছেন।
তবে অনেক প্রবাসী ফিরে আসার পর বড় ট্যাক্স বিলের আশঙ্কায় রয়েছেন। যারা আগের সময়ে বৃটেনে কর দিতেন না, তাদের ১৮৩ দিনের বেশি থাকলে কর দিতে হতে পারে। বর্তমান কর বছর আগামী মাসে শেষ হচ্ছে, তাই তারা সীমার কাছাকাছি পৌঁছতে পারেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত ৬০ দিন উপেক্ষা করার অনুমতি আছে। তবে প্রবাসীরা এই ব্যতিক্রমের আওতায় পড়বে কিনা তা স্পষ্ট করার অনুরোধ করেছেন। একাউন্ট্যান্সি ফার্ম ইউএইচওয়াই হ্যাকার ইয়ংয়ের পার্টনার স্যান্ড্রা জীবান বলেন, এইচএমআরসি খুব সীমিতভাবে ব্যাখ্যা করে কে এই ব্যতিক্রমের আওতায় পড়বে। সাধারণত পরিবার সঙ্গে থাকার জন্য বৃটেনে থাকা ‘ব্যতিক্রমী’ হিসেবে গণ্য হয় না।
