ট্রাম্পের ইঙ্গিত: হরমুজ প্রণালিতে সহায়তা না করলে চীন সফর স্থগিত হতে পারে

ট্রাম্পের ইঙ্গিত: হরমুজ প্রণালিতে সহায়তা না করলে চীন সফর স্থগিত হতে পারে

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি বেইজিং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সহায়তা না করে, তাহলে তার সফর স্থগিত করা হতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপরিহার্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফর নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

এতে বলা হয় ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, যদি চীন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সাড়া না দেয়, তাহলে এ মাসে নির্ধারিত তার বেইজিং সফর বাতিল হতে পারে। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে এই প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

৩১ মার্চ থেকে ২রা এপ্রিলের মধ্যে বেইজিং সফরের কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এ সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করার কথা তার। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ এই প্রণালির সুবিধা পায়, তাদের উচিত এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, চীনেরও সাহায্য করা উচিত। কারণ তারা তাদের ৯০ ভাগ তেল এই প্রণালি দিয়ে সরবরাহ নেয়। তবে বাস্তবে চীন প্রায় ৫০ ভাগ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে আমদানি করে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ৯০ ভাগ নয়।

অন্য দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্পের এই আহ্বানের ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে চীন। সোমবার লিন জিয়ান ইরানে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়া ঠেকাতে, আঞ্চলিক অস্থিরতা এড়াতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব কমাতে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তিনি জানান, চীন সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে।

তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার জবাবে এই প্রণালি বন্ধ করেছে ইরান। এই অবরোধের ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। খবর পাওয়া গেছে, চীন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে যাতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা যায়, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে ট্রাম্প ও শি জিনপিং দক্ষিণ কোরিয়াতে অক্টোবর মাসে সাক্ষাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধে একটি অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লাইফেং প্যারিসে বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও এই আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন সরাসরি মন্তব্য করেনি যে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের বড় আকারের যুদ্ধ শুরু করা এই শি-ট্রাম্প বৈঠকের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতির মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, চীন সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে এবং উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। যদিও চীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি, দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও জাতীয়তাবাদী বিশ্লষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বৈঠক প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। চীনা বিশ্লেষক নিউ তানচিন মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানে তৈরি করা পরিস্থিতি সামাল দিতে চীনের সাহায্য চাইছে। আরেক বিশ্লেষক রেন ই এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি সার্বভৌম দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন আশা করা হবে যে চীন ট্রাম্পকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেবে?

MD Khan

২ মাস আগে

ট্রাম্পের উদ্ভট উদ্ভট পদক্ষেপে পৃথিবী অনিরাপদ হয়ে গেছে । ট্রামকে পাত্তা না দেওয়াই উচিত।

মন্তব্য করুন