ত্রয়োদশ সংসদ নির্চনের ইশতেহার অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের অধীনে সোমবার দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সীমান্ত এলাকা দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মীরেরপুল এলাকায় দাদনা খাল ৭ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ সময় তিনি বলেন- শুধু ফেনীই নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের সব নদ-নদী ও খাল পুনরুদ্ধার করা হবে। বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব নদ-নদী ও খালে পানি প্রবাহ আগের মতো স্বাভাবিক করার কথাও জানান পরিবেশমন্ত্রী। নদ-নদী ও দখল দূষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে সরকার। জেলা প্রশাসক মনিরা হকের সভাপতিত্বে খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন, দাগনভূঞা উপজেলা আহ্বায়ক আকবর হোসেন, সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু।
উল্লেখ্য, ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার এক সময়ের বাণিজ্যিক যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ছিল দাদনার খাল। প্রায় দুইশ’ বছরের পুরনো এ খাল দিয়ে নোয়াখালীর সেবারহাট খাল হয়ে দাগনভূঞা ছোট ট্রলারে পণ্যসামগ্রী আনা-নেয়া করতো ব্যবসায়ীরা। চাষাবাদের জন্য কৃষকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই খালের পানিতে চলতো ৩০ গ্রামের বোরোর আবাদ। দাদনা খালটি ছোট ফেনী নদীর নোয়াখালীর কবিরহাট পয়েন্ট সংগমস্থল থেকে উৎপন্ন হয়েছে। একদিকে ফেনীর দাগনভূঞার মাতুভূঞা-সংলগ্ন ছোট ফেনী নদী, অন্যদিকে সেবারহাট বাজার-সংলগ্ন মহাজন খাল। মাঝে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে খালটি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সেনবাগ উপজেলার সীমানায় যুক্ত হয়ে দাগনভূঞা-বসুরহাট সড়কের পাশঘেঁষে দাগনভূঞা পৌরসভায় প্রবেশ করে। সেবার হাটের ব্রিজ থেকে শুরু করে বাঁধের গোড়া তুলাতলি বাজারের এক অংশসহ দাগনভূঞা পৌরসভার গেট পর্যন্ত রোডের খালের প্রায় পুরোটা দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। দাগনভূঞা অঞ্চলে বিস্তৃত দাদনা খালের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পেটে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্কারের অভাবে দাগনভূঞা বাজার ও নামার বাজার আবাসিক এলাকার পতিত আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে খালটির প্রবাহমান স্রোতধারা। সর্বশেষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার জন্য দাগনভূঞার পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের) ৪ কোটি টাকা অর্থায়নে সংস্কার করে এবং বাজার থেকে পূর্ব অংশের একপাশ নান্দনিক ব্রিজ করা হয়। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে দাগনভূঞা পৌরসভা। অভিযোগ রয়েছে এ অর্থ লুটপাট করার কারণে খাল খনন তো দূরের কথা সৌন্দর্য বর্ধনের অর্থও লুটপাট করা হয়। যার ফলে মুসলধারে বৃষ্টি হলে পানি নামতে না পারায় উপজেলার ৪০টি গ্রাম জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয়। তলিয়ে যায় শত শত ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের। ২০২১ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর ফেনীতে পরিবেশ ও বন আদালতের কার্যক্রম চালুর শুরুতেই দাদনা খালের দখল ও দূষণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়ালের উদ্যোগে ফুটস্টেপ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাগনভূঞা বাজার এলাকায় খালটি পরিষ্কার কাজ শুরু করে। ফেনী জেলায় প্রধানত ৫টি নদী রয়েছে। এগুলো হলো ফেনী নদী, মুহুরী নদী, সিলোনিয়া নদী, ছোট ফেনী নদী এবং রহমতখালি নদী। আর জেলায় উল্লেখযোগ্য খাল আছে ১৭১টি। এরমধ্যে বেশির ভাগই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ছোট-বড় খালের অস্তিত্ব রয়েছে, যার মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলায় ৮টি উল্লেখযোগ্য। তবে অধিকাংশ নদী ও খাল বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।
‘নদী ও খাল দখল-দূষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হবে সরকার’
ফেনী প্রতিনিধি
১৭ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
