পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ

সরিয়ে দেয়া হলো শীর্ষ দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রদবদল পুলিশ স্তরেও

ফন্ট সাইজ:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলে কঠোর মনোভাব নিয়ে চলছে । রোববার বিকেলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। এদিন মধ্যরাতে এক ঘোষণায় রাজ্যটির দুই শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। অতীতে নির্বাচন কমিশনের স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরিয়ে দেয়ার নজির থাকলেও মুখ্য সচিবকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা এই প্রথম।
মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। আর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্র সচিব করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। আর সোমবার সকালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রিম সরকার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডের মতো শীর্ষ কর্তাদের বদল করা হয়েছে। যাদের সরানো হয়েছে, তারা কেউ নির্বাচনের কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ভোট ঘোষণার পর এত দ্রুত প্রশাসনিক বদলে কমিশনের ‘অতিসক্রিয়তা’ দেখছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সংসদে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের প্রতিবাদে ওয়াক আউট করেছে। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নামছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে বলা হয়েছে।
নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যটিতে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গেছে। এই সময়ে কমিশনের হাতে বিশেষ ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। কয়েকদিন আগেই কলকাতা সফরে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। নিরাপত্তায় যেন কোনও ফাঁক না থাকে সেজন্য কমিশন গতবারের তুলনায়পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এছাড়াও পুলিশ ও আয়-ব্যয়ের নজরদারির জন্য গতবারের তুলনায় পর্যবেক্ষক আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে
পর্যবেক্ষক বা ‘অবজার্ভার’ নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে চলেছে বলে সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, সেবার রাজ্যে মোট জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন ১৬০ জন। অর্থাৎ একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক, এক জনকে ।
প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতি কেন্দ্রে আলাদা পর্যবেক্ষক থাকলে নজরদারি অনেক বেশি নিঁখুত হবে। শুধু জেনারেল অবজার্ভার নয়, ব্যয়ের হিসেব নিকেশ দেখতে ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও এ বার অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ‘পুলিশ অবজার্ভার’ নিয়োগের ক্ষেত্রে। কোনও কোনও স্পর্শকাতর বিধানসভা কেন্দ্রে একজন নয়, একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, কমিশনের এই ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ থেকেই স্পষ্ট ভোট ঘিরে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২৪০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী বিভিন্ন কেন্দ্রে টহল দিচ্ছে মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে। নির্বাচনের সময় হাজারেরও বেশি কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী পুলিশের পাশাপাশি শান্তি শৃঙ্খলার কাজে নিযুক্ত থাকবে।