ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর ঘোষণা থাকলেও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে কর্মসূচি শুরু হলেও তিনি চলে যাওয়ার পরপরই কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিকে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানি ও অপরিষ্কার ড্রেনকে ঘিরে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র?্যালি বের হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের দিকে যায়। পরে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ড্রেন ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু হয়। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ শাহীনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা আয়োজনেরও কথা ছিল।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শহর জুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দিনব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পরই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরজমিন দেখা যায়, অভিযানে অংশ নেয়া অনেকেই মূলত ছবি তোলা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেনে জমে থাকা ময়লা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ড্রেন, ঝোপঝাড় ও আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি, একদিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বদলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সচেতনতা বাড়াতে ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।
