নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শীতের আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে চড়া দাম পাওয়ার আশায় উঁচু জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন তারা। গত মৌসুমে বাজারদর কম থাকায় অনেক কৃষক লোকসান গুনেছেন। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক কম বীজের দাম ও সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।
সরজমিন দেখা গেছে, বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে আমন ধান কাটার পর পরই জমি প্রস্তুত করে আগাম আলু রোপণ করছেন কৃষকরা। এতে কৃষক ও কৃষি-শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। ধান কাটা-মাড়াই ও আলু রোপণকে ঘিরে নারী-পুরুষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা জানান, ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উত্তোলনযোগ্য ‘সেভেন’ জাতের আগাম আলুর চাষ এবার বেশি হচ্ছে। যে কৃষক যত আগে আলু বাজারে তুলতে পারবেন, তার লাভের সম্ভাবনাও তত বেশি।
বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক মিনারুল ইসলাম ৬৫ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করছেন। তিনি জানান, জমি ইজারা, হাল চাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আলুর কেজি বিক্রির আশা করছেন তিনি।
রণচণ্ডী ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছর প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়েছিল। সেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার আরও আগেভাগে আলু চাষ করেছেন তারা। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন ও চড়া দাম পাওয়ার আশা করছেন। কিশোরগঞ্জের আলুচাষি লুৎফর রহমান লুতু বলেন, বর্তমানে বীজ আলুর দাম ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি। হিমাগার ভাড়া, বস্তা ও পরিবহনসহ অতিরিক্ত খরচের কারণে কৃষক কাক্সিক্ষত লাভ থেকে বঞ্চিত হন। ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা কাক্সিক্ষত বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
