সাভারের আশুলিয়ায় ডিইপিজেড এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় হকাররা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় ডিইপিজেডের আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীরা হকারদের সড়ক ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করলে হকারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সড়কটিতে বেশকিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ডিইপিজেড এলাকায় এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
থানা পুলিশ জানায়, নবীনগর-চন্দ্রা মহাড়কের ডিইপিজেড এলাকায় অবৈধ হকার উচ্ছেদে যায় বেপজা। এ সময় হকাররা এক হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে চন্দ্রাগামী লেন অবরোধ করেন। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে ধাওয়া দিয়ে হকারদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিক্ষুব্ধ হকাররা অভিযোগ করেন, আনসার বাহিনীর সদস্যরা আমাদের কাছে চাঁদা চায়। চাঁদা দিতে না চাওয়ায় আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই। আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে হকাররা বলেন, আমাদের কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছে।
তাদের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় পরিকল্পিলতভাবে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। ফুটপাথের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, আজকে ১৫ দিন ধরে হকারদের অত্যাচার করা হচ্ছে। কেউ যদি রাস্তায় দোকান বসায় তাহলে আনসার সদস্যরা এসে চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা দিতে না পারলে দোকান তুলে দেয়। তিনি বলেন, আমরা পেটের দায়ে রাস্তায় দোকান করে পেট চালাই। কিন্তু আজ কয়েকদিন ধরে আমাদের বসতে দেয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। কারণ আমাদের পেটে ভাত নাই, আমরা কি করে খাবো। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত করতে গেলে হকাররা বাধা দেন এবং তারা চন্দ্রাগামী লেন অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হকারদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
