ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে গ্যাসের তেলেসমাতি

ফন্ট সাইজ:

গ্যাসের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই গ্যাস নিয়ে তেলেসমাতি। সকাল বেলাতেই উধাও গ্যাস। আসছে দুপুর গড়িয়ে। আবার সন্ধ্যা থেকে নেই। কোথাও কোথাও একেবারেই নেই গ্যাস। ১০দিন আগে একটানা ২৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে পাইপলাইন মেরামতের কাজ করা হয়। উদ্দেশ্য বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ। কিন্তু ফলাফল শূন্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অনেক মহল্লাতেই গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার দীনা সরকার জানান, সকাল সাড়ে ৭টার পর গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না। এরপর ৩টার দিকে গ্যাস আসে। সন্ধ্যার পর কোনো সময় থাকে আবার কোনো সময় থাকে না। সময়মতো রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। বড় ভোগান্তি হচ্ছে। একদিন বন্ধ রেখে গ্যাস লাইন মেরামতের পর ২-৩ দিন ভালোই ছিল। এরপর থেকেই সমস্যা। বণিকপাড়ার বাসিন্দা এডভোকেট আবদূন নূর জানান, চারদিন পর শনিবার বিকালে গ্যাসের দেখা পেয়েছেন। থাকবে কিনা তাও নিশ্চিত নয়। পাইপলাইনের গ্যাস রেখেও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে আমাদের। জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গত ১৫ই সেপ্টেম্বর পূর্ব ঘোষণা দিয়ে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও ১২ ঘণ্টা পর অর্থাৎ পরদিন সকাল ১০টায় গ্যাস সরবরাহ দেয়া হয়। রাত ১০টায় গ্যাস এলে রান্নাবান্না হবে এই আশায় বসে থেকে না খেয়েই ওই রাত পার করতে হয় শহরের বেশির ভাগ মানুষকে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের এই মেরামতেও গ্যাসের দুর্ভোগ দূর হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ও শহরতলীর এদিকে-ওদিকে গ্যাসের কূপ। গত ১৯শে সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের শহরতলীর একটি কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের উদ্বোধন করেন। কিন্তু গ্যাসের এলাকাতেই গ্যাসের জন্য নাজেহাল হচ্ছেন মানুষ। ঘরে পাইপলাইনের গ্যাস রেখে ব্যবহার করতে হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। কোথাও কোথাও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মাটির চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকে মাটির চুলা তৈরি করছেন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল হক জানান, শহরের কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে না এই অভিযোগ তাদের কাছে রয়েছে। কাজীপাড়া, কান্দিপাড়া, শিমরাইলকান্দি, কলেজপাড়া ও মোড়াইল এলাকা থেকে গ্যাস না থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর শনিবার তাদের লোকজন সেসব এলাকায় যান। তারা দেখছেন কী কারণে এমন হচ্ছে এবং কী ব্যবস্থা নেয়া যায়। আগে প্রবলেমটা দেখি। আমরা নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করেছি। সেজন্য হয়তো একটু সমস্যা হতে পারে। অন্য কোনো এলাকা থেকে অভিযোগ পাইনি।