গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন

ফন্ট সাইজ:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চল্লিশ সাল জয়রামওঝা এলাকায় তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। এ ছাড়া চাষাবাদকৃত ধানক্ষেত এখন তিস্তায় পরিণত হয়েছে। ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো যে যেভাবে পারছে দ্রুত তাদের ঘর ও আসবাবপত্র, গরু, ছাগল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। গত কয়েকদিনে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, চাষাবাদ ফলসসহ জমি বিলীন হওয়া পরিবারগুলো হলো- বাবর আলী, গোলাপী, গোলজার, নুর ইসলাম, মতিয়ার, আহাদ আলী, জহুরা, আসাদুল, আব্দুল, মইনুল, শাহ আলম, নজু, মোন্নাফ, আবুল হোসেন, শফিকুল, দুলু, নুরল ও নাজমুল।

বাড়িভাঙা আসাদুল বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ভালোভাবেই ছিলাম এবং চরের জমিতে চাষাবাদ করে জীবন-জীবিকা চালিয়ে আসছি। কিন্তু এবার মূল বন্যায় তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও তা কেটে যাওয়ার কয়েকদিন আগে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্রোতের গতি চল্লিশ সাল চরের দিকে আসে এবং সেতুরক্ষা বেড়িবাঁধের সঙ্গে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত রাস্তায় আঘাত হানে। এতে রাস্তাসহ চাষকৃত ধানসহ জমি ও বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, একজনের ৩০ শতক জমি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করে ছিলেন। সে জমিও তিস্তায় ভেঙে গেছে। এমনিতে বাড়িঘর ও নিজের ধানের জমি গেছে তার উপর বন্ধক জমি গেছে। এখন নিঃস্ব। বন্ধকী টাকা দিবো কীভাবে এ চিন্তায় ঘুম আসে না। নুরুল বলেন, এর আগে ৬ বার বাড়ি ভেঙে গেছে। এখানে একটু শান্তিতে ছিলাম। কিন্তু কপালের দুঃখ যায় না, আবার সব হারিয়ে নিঃস্ব।

স্থানীয় সামাদ, ছাপিয়া বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বাড়িঘর ও জমি সব ভেঙে যাবে। আমরা এখন পর্যন্ত টিকে আছি কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ভরসা পাচ্ছি না তাই দু-একদিনের মধ্যে আমাদের বাড়ি সরিয়ে নিবো। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে চল্লিশ সাল এলাকায় ভাঙছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়ি ও জমি ভেঙে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। কিন্তু রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দেখে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উপজেলা প্রশাসন ভাঙন শুরুতে কিছু খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, তিস্তার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এর আগে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। নতুন করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরও সহায়তা দেয়া হবে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হকের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।