ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রামে প্রায় ১০০ পরিবারের বসবাস। সরকারি জায়গায় নির্মিত এ গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো ২০০০ সালে নির্মাণ করে দেয়া হলেও দীর্ঘ ২৬ বছরেও সেখানে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে জরাজীর্ণ ঘরে নানা দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ ঘরই এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে অঝোরে পানি পড়ে। বৃষ্টির সময় অনেক পরিবারকে ঘরের ভেতর জমে থাকা পানি সরিয়ে বসবাস করতে হয়। এতে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পরিবারগুলোকে। শুধু ঘরের সমস্যাই নয়, গুচ্ছগ্রামবাসীর চলাচলের জন্য নেই প্রয়োজনীয় রাস্তা। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি পেরিয়ে যাতায়াতও করতে হয় তাদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিশু, নারী ও বয়স্কদের। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যেতে গিয়েও প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০০ সালে সরকারি উদ্যোগে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার পর গুচ্ছগ্রামটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ঘর সংস্কারে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, জরাজীর্ণ ঘরগুলো দ্রুত সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের পাশাপাশি চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে অবহেলিত এ গুচ্ছগ্রামের শতাধিক পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
