কারাগারে বন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাপ্রধান ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ চরিতার্থ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার দুই ছেলে। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, কারাগারে তাদের বাবাকে ‘ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে’। ইমরান খানের কারাবন্দী অবস্থার বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকার মধ্যেই তারা এ অভিযোগ করলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান (২৭) ও সুলেইমান খান (২৯) তাদের বাবাকে মুক্ত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন ইমরান খান। দুর্নীতির মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা তাদের বাবার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি। এমনকি বাবার মুক্তির জন্য তদবির করতে বৃটেন থেকে পাকিস্তান যাওয়ারও অনুমতি তাদের দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন।
এ ছাড়া কাসিম ও সুলেইমান অভিযোগ করেছেন, তাদের বাবাকে বর্তমানে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছে। যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে, সেটি প্রায় ৬ ফুট বাই ৮ ফুট।
এদিকে, চলতি মাসের শেষ দিকে ইমরানের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দেশজুড়ে পদযাত্রার পরিকল্পনা করছে। ইমরানের মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার চার বছর পর ইমরান দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
লন্ডন থেকে দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের প্রথম স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের সন্তান কাসিম ও সুলেইমান বলেন, তারা তাদের বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে ‘গভীরভাবে, অত্যন্ত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। কারাগারে ইমরানকে যে পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে, তা ‘মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের একটি রূপ’ বলেও তারা মন্তব্য করেন।
গত মাসের শেষ দিকে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচের সম্প্রচারের সময় স্কাই স্পোর্টস কাসিম ও সুলেইমানের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে।
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে।
ইমরান খানের ছেলেরা বলেন, তাদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ‘নিষ্ঠুর’ আচরণের পেছনে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ’ কাজ করছে।
ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আসিম মুনিরকে আকস্মিকভাবে পদাবনতি দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের বিষয়টি তখন থেকেই ব্যাপকভাবে পরিচিত।
২০২৩ সালে মুনির সেনাপ্রধান হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে নিপীড়ন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে তার ছেলেদের অভিযোগ।
সুলেইমান বলেন, এটি যে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে পরিচালিত হচ্ছে, তা খুবই স্পষ্ট। আর এ কারণেই আসিম মুনিরের নির্দেশে তাকে এত কঠোরভাবে রাখা হচ্ছে।
