৪৬তম বিসিএসের অধিযাচনপ্রাপ্ত সব নন-ক্যাডার পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রিট আবেদনকারীদের সুপারিশের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নন-ক্যাডার পদ অন্তর্ভুক্ত না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিতে কতটি পদের অধিযাচন পাঠানো হয়েছিলÑতার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চায়া হয়েছে।
মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নন-ক্যাডার সুপারিশ থেকে বঞ্চিত রুমেন আহমেদসহ ১৭৩ জন প্রার্থীর দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি জে. বি. এম. হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মো. মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। মামলায় পিএসসির চেয়ারম্যান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, পিএসসির সচিব এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ (ক্যাডার) সংশ্লিষ্ট চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আবেদনকারীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলে ৩ হাজার ১৪০টি ক্যাডার পদের বিপরীতে ১ হাজার ৪৫৭ জনকে সুপারিশ করা হয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ১০০ নন-ক্যাডার পদের স্পষ্ট অধিযাচন থাকা সত্ত্বেও মূল বিজ্ঞপ্তিতে তা যুক্ত না করায় এই বিসিএস থেকে একটি নন-ক্যাডার পদেও সুপারিশ করা হয়নি। ফলে প্রায় আড়াই হাজার যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্যই থেকে যায়।
রিটকারীদের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েও সাড়া না পেয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৪৪(১) ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব জানান, বিসিএসে নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধি চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি ব্যাচেই বিপুল সংখ্যক প্রার্থী ক্যাডারের পাশাপাশি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়ে আসছেন। ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ১০০ পদের অধিযাচন থাকা সত্ত্বেও পিএসসি কাউকে সুপারিশ না করায় প্রার্থীরা তাদের ন্যায্য সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে এই রুল জারি করেছেন।
