ভালো জাতি বা সমাজ গঠন করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। কথাগুলো বলছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। গতকাল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য পাঠকদের দোরগোড়ায় ভালো বই পৌঁছে দেয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এ. কে. এম আবদুল্লাহ খান এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প-এর প্রকল্প পরিচালক ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মুঃ বিল্লাল হোসেন খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, লাইব্রেরি কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষকে কীভাবে বইমুখী করা যায়, সে বিষয়েই আমাদের মনোযোগী হতে হবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সারা দেশে অধিক সংখ্যক মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস ছড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এ. কে. এম আবদুল্লাহ খান বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে সারা দেশে যে পাঠক সমাজ তৈরি হচ্ছে, সেটা আগামী দিনে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সূচনা বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (যুগ্ম সচিব) মুঃ বিল্লাল হোসেন খান বলেন, এই প্রকল্প সারা দেশে সৃজনশীল পাঠক নির্মাণে ভূমিকা রাখবে এবং সকলের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম সামনে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সারা দেশে মাঠ পর্যায়ে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ির মাধ্যমে ৬৪টি জেলার ৩৬৮টি উপজেলায় ৩২০০টি স্পটে সর্বসাধারণের জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের জন্য বই পঠনের সেবা প্রদান করবে। এর মধ্যদিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩,৭৫,০০০ জন পাঠক সৃজনশীল বই পাঠ ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আসবেন। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ সঞ্চার ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ৭০০টি সাংস্কৃতিক সংঘ পরিচালনা এবং ৮০০০টি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
