দুই ‘স্বদেশ’: টরন্টোয় কানাডা-বসনিয়া ম্যাচে প্রবাসী ভক্তদের আবেগ

দুই ‘স্বদেশ’: টরন্টোয় কানাডা-বসনিয়া ম্যাচে প্রবাসী ভক্তদের আবেগ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তা রূপ নেয় অভিবাসী সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায়। টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে গ্যালারির সিংহভাগ জুড়ে লাল জার্সিধারী কানাডিয়ান সমর্থকরা রাজত্ব করে ঠিকই। তবে, স্টেডিয়ামের বাইরে নীল জার্সি আর বসনিয়ার পতাকা জড়িয়ে হাজির ছিলেন হাজারো প্রবাসী বসনিয়ান।

খেলা শুরুর আগে টরন্টোর ডাউনটাউনে হাজার হাজার বসনিয়ান সমর্থক জড়ো হয়ে এক বর্ণাঢ্য র্যা লি বের করেন। এ সময় তালি ও ড্রামের তালে তালে তাদের মুখে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) স্লোগান মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। নব্বইয়ের দশকে বসনিয়ার গণহত্যা থেকে বাঁচতে সপরিবারে কানাডায় আশ্রয় নিয়েছিলেন নাদিয়া। মাথায় কানাডার ক্যাপ আর গায়ে বসনিয়ার জার্সি জড়ানো নাদিয়া আল জাজিরাকে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমার যদি দুটি হৃদয় থাকত! তাহলে আমি আমার এই দুটি দেশকেই সমানভাবে সমর্থন করতে পারতাম। ফিলিস্তিনিদেরও মুক্ত হওয়া উচিত, আর কোনো যুদ্ধ বা গণহত্যা আমরা চাই না। বিশেষ করে শিশুদের এই দুর্ভোগ দেখে চোখ ফেটে জল আসে।’

ম্যাচটিতে ৪৫,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে ১-১ গোলের নাটকীয় ড্র হয়। ম্যাচ শেষে নিউ ইয়র্ক থেকে সাত ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে আসা তানিয়া নামের একজন বসনিয়ান সমর্থক বলেন, ‘ফ্যান ফেস্টিভ্যালের আবহ দারুণ ছিল। আমাদের ছেলেরা ভালো খেলেছে। আমরা জিতিনি, তবে ম্যাচ তো হারিনি!’

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা ও অভিবাসন নীতির কারণে যখন অনেক দেশের সমর্থক ও কর্মকর্তা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তখন কানাডার আতিথেয়তায় মুগ্ধ সবাই। নিউজার্সি থেকে খেলা দেখতে আসা বসনিয়ান সমর্থক আদমির বলেন, ‘স্টেডিয়ামের কর্মী থেকে শুরু করে রেস্তোরা মালিক-সবাই আমাদের দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। আমেরিকার ভিসা জটিলতার চেয়ে কানাডায় আসার অভিজ্ঞতা অনেক সহজ ছিল।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন