শিক্ষা ছুটিতে বিদেশ গিয়ে ফেরেননি নোবিপ্রবি’র ১৫ শিক্ষক

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশ গিয়ে ফেরেননি নোবিপ্রবি’র ১৫ শিক্ষক

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২১ শিক্ষকের মধ্যে ১২২ জনই শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ৩ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ১ জন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন। একইসঙ্গে পিএইচডি করতে গিয়ে দেশে ফিরে না এসে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন অন্তত ১৫ জন শিক্ষক। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট ও একাডেমিক কার্যক্রমে চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা ছুটিতে থাকা অধিকাংশ শিক্ষক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩ জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। অর্থনীতি বিভাগে রয়েছেন ৯ জন শিক্ষক। এ ছাড়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স (ফিমস), অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই), ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগে ৭ জন করে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই), অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স এবং বাংলা বিভাগে ৬ জন করে, ফার্মেসি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে (আইআইটি) ৫ জন করে, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স (এমআইএস), ইংরেজি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (ইএসডিএম), ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স (এফটিএনএস), ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে ৪ জন করে, পরিসংখ্যান বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্স (আইআইএস)-এ ৩ জন করে, সমাজবিজ্ঞান, প্রাণীবিদ্যা, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিনিউকেশনে ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই), শিক্ষা প্রশাসন এবং কৃষি বিভাগে ২ জন করে এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম), শিক্ষা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগে ১ জন করে শিক্ষক বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষা ছুটিতে থাকা ১২২ জন শিক্ষকের মধ্যে ২১ জন বেতন-ভাতা ছাড়া ছুটিতে রয়েছেন। আবার পিএইচডির জন্য নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ শিক্ষক এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। তাদের মধ্যে একজনের বেতন বন্ধ থাকলেও বাকি ৭ জন এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের সূত্রে আরও জানা যায়, বিদেশে পিএইচডি করতে গিয়ে নির্ধারিত সময় শেষে আর দেশে ফিরে আসেননি অন্তত ১৫ জন শিক্ষক। পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নত গবেষণা পরিবেশ, উচ্চ বেতন-ভাতা, আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্র এবং উন্নত জীবনমানের সুযোগ-সুবিধা অনেক শিক্ষককে বিদেশেই স্থায়ী হতে উৎসাহিত করছে। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে দেশে ফিরেননি এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

পিএইচডি শেষে আর ফিরে না এসে চাকরি ছেড়ে দেয়া শিক্ষকদের মধ্যে ৭ জনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মোট পাওনা রয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২১ টাকা। পাওনাদার শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ফিমস বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. আহসান হাবিব, কৃষি বিভাগের সাবেক শিক্ষক আবু বক্কর ছিদ্দিক, ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষক হাসানুজ্জামান, এসিসিই বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, বিজিই বিভাগের সাবেক শিক্ষিকা খাদিজাতুল কুবরা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক জিনাত হোসেন এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মেহেদী হাসান চৌধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা অর্জন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ছুটিতে থাকা এবং অনেকের আর ফিরে না আসার প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণে আরও কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি করেছে তারা।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, যেসব শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাওনা রয়েছে, তাদেরকে আমরা বারবার চিঠি দিচ্ছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক শিক্ষক চিঠি পাওয়ার পর পাওনা অর্থ ফেরত দিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছি এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগও নিচ্ছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন