অবশেষে বঙ্গভবন থেকে সরে দাঁড়াতে হলো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার মনোনীত প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে। দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন তিনি। শুক্রবার বিকালে সামরিক সচিবের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিন সরকারের শপথ পড়ানো আলোচিত-সমালোচিত এই প্রেসিডেন্ট। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর-বিক্রম। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
এদিকে পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন দু-একদিনের মধ্যে বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসভবনে উঠবেন। শিগগিরই চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন। এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী অবসর পরবর্তী সুবিধা পাবেন সাহাবুদ্দিন। এদিকে সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসবে দুই মাস পর। তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। তবে সরকার চাইলে জরুরি অধিবেশন ডেকে তার আগেও এই নির্বাচন হতে পারে।
মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও নতুন সরকারের প্রতি তার সমর্থন ছিল- হাফিজ: এদিকে প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকাল ৫টা ১ মিনিটে তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে দাখিল করেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। একইসঙ্গে পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি গুরুতর অসুস্থ। তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃৎযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে।
এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব শারীরিক জটিলতা ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেয়া থাকে। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এখন স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। আমার মনে হয়, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়ই। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন: পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪শে এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। অসুস্থতার কারণ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অঁঃড়হড়সরপ ঘবঁৎড়ঢ়ধঃযু নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে প্রেসিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।
যে কারণে সরে দাঁড়াতে হলো প্রেসিডেন্টকে: আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের জোর দাবি ওঠে। তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে প্রেসিডেন্ট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের ফের আলোচনা শুরু হলেও বিএনপি’র নেতৃত্ব দেখে শুনে ব্যবস্থা নেয়ার পথে হাঁটে। দেড় বছর মেয়াদ থাকায় প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনে তাড়াহুড়ো ছিল না এতদিন। কিন্তু সাহাবুদ্দিন নিজেই পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন। গত মে মাসে লন্ডন সফরের সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন- গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এমন তথ্য সামনে এসেছে। গত ৯ থেকে ১৮ই মে সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফর করেন।
এ সময় তিনি দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। অনেকে বলছেন, অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই যোগাযোগ সরাসরি শপথ ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। এছাড়া তার এই যোগাযোগ প্রমাণ করে তিনি ফ্যাসিস্টদের পক্ষে এখনও কাজ করছেন। এ কারণে তাকে এই পদে রাখার আর সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাহাবুদ্দিনের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা দেয়া হয়। তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। জুলাই মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারি ইচ্ছার বিষয়টিও তাকে অবহিত করা হয়। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
সোমবারের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাহাবুদ্দিন: সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশানের বাসভবনে উঠবেন। স্বাস্থ্যগত কারণে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে তার। বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, তিনি রোববার কিংবা সোমবারের মধ্যে বঙ্গভবন ছাড়তে পারেন। বঙ্গভবন ছাড়ার আগে বেশ কিছু প্রসিডিউর রয়েছে। বেশ কিছু অফিসিয়াল কাজও রয়েছে। তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে।
যেসব সুবিধা পাবেন সাহাবুদ্দিন: প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিন আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক প্রাধান্য পাবেন না। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইন-নির্ধারিত অবসরভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে নির্ধারিত সময় দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হলে সাবেক রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে পদ ছাড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আজীবন অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। মো. সাহাবুদ্দিন যেহেতু ছয় মাসের অনেক বেশি সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই তিনি ২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী আজীবন অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী। এ ছাড়া আইননির্ধারিত অন্যান্য সুবিধাও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি কী ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল, নিরাপত্তা, সরকারি গাড়ি বা এসকর্ট সুবিধা পাবেন, তা সরাসরি অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা-সংক্রান্ত আইনে নির্ধারিত নেই। এসব বিষয়ে প্রযোজ্য সরকারি বিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রটোকল-সংক্রান্ত নির্দেশনা বা সরকারের পৃথক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কার্যরত রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় প্রাধান্যের কথা বলা হয়েছে। ফলে পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ওই সাংবিধানিক প্রাধান্য আর পাবেন না।
গ্রেপ্তার দাবি বিরোধী দলগুলোর: পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনকে সেইফ এক্সিট না দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের ঘাড় থেকে নামলো স্বৈরাচারের দোসর। স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ওদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। গতকাল সংবাদ সম্মলেনে এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ফ্যাসিবাদের বড় দোসর। সরকারের কাছে দাবি জানাই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, “চুপ্পুর নিরাপদ প্রস্থানের কোনো সুযোগ নেই। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লেখেন, অবিলম্বে ফ্যাসিবাদের দোসর মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ওদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে সদ্য পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা শনিবারের মধ্যে সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন।
কে হচ্ছেন ২৩তম প্রেসিডেন্ট: নতুন প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন রাজনীতিবিদ না আমলাকে বেছে নেবে। তবে দলটির নীতি-নির্ধারণী ফোরামের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দলের বর্ষীয়ান কোনো নেতাকেই বঙ্গভবনে পাঠানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম রয়েছে আলোচনায়। তবে যিনি প্রেসিডেন্ট হবেন তার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদকেই দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিতে পারে দলটির হাইকমান্ড। সেজন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
