দেশে জ্বলানি সংকট প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের অজুহাত দিয়ে সরকার ছয় মাস পার করলেও কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারেনি। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম দিয়ে সরকারকে বিনামূল্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দেয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিদ্যুতের লাইন লম্বা হওয়া সংক্রান্ত নানা দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলে সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।’
শনিবার বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘শিল্পের মূল চালিকাশক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদের সরকারি দলের ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যরাও সংসদে স্বীকার করেছেন যে শিল্প খাত এখন এক অজানা গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকসহ পুরো শিল্প উৎপাদনে চরম ধস নেমেছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমীর বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং বাংলাদেশ থেকে অর্ডার অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কারখানা বন্ধ, ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই এবং ব্যাংক ঋণখেলাপির পরিমাণ বেড়ে দেশ এক অনিশ্চিত অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হবে।’
তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে দেশ এক ভয়াবহ ট্রমা ও যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে। বহু রাজনৈতিক নেতা গুম হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন এবং শত শত পরিবার এখনও স্বজন হারানোর কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের শাসনযন্ত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে চব্বিশের বিপ্লবের পর একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের সংস্কারকামী দলগুলো এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং দেশের ৮২.২ শতাংশ জনগণ এই সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই জনগণের সাথে করা ওয়াদার বরখেলাপ করেছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছে।
১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণরায় অমান্য করার কারণেই দেশে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। জনগণের ভোটের রায়কে অবহেলা বা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কারো নেই; গণরায় অমান্য করা মানেই জনগণকে অপমান করা।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ মোট ৬টি মৌলিক দাবিতে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। বাকি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশে বিরাজমান বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ করা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে আনা এবং কৃষকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।
মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরীর আমির আবিদুর রহমান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব বিভাগের সেক্রেটারী ড. ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মাদ, মহানগরীর আইন সম্পাদক শাহীন মিয়া, মহানগরীর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক ইকবাল হোসেন, নুরুল ইসলাম আকন্দ, আইবিডাব্লুএফ এর মহানগরী সভাপতি মাহফুজুল হক মোল্লা।
