কুমিল্লার পাঁচথুবী ইউনিয়নের বামইল দক্ষিণপাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, পাল্টা মিথ্যা মামলা এবং অপপ্রচারের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষের দায়ের করা অভিযোগের বিপরীতে অপর পক্ষ দাবি করছে, জমি দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি চাঁদা দাবি, মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ এনে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইসরাত জাহান। অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান হাসান রাফি রাজু, সাবেক ইউপি সদস্য তাহেরসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সরজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, মূল বিরোধটি রাস্তার পাশের একটি জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে। তাদের ভাষ্য, জমিটি বৈধভাবে বিক্রির পর সেটি দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রতিপক্ষ চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “আব্দুস সালাম বৈধভাবে জমিটি মোবারকের কাছে বিক্রি করেন। এরপর ওই জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। সেটি ব্যর্থ হওয়ার পর নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত মারধরের ছবির কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, অন্য একটি ব্যক্তিগত ঘটনার ছবি ব্যবহার করে বর্তমান ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শাহজাহান মাস্টার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পরিকল্পিতভাবে আমাকে জড়ানো হয়েছে। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।” জমির বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, “জমিটি আমি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মোবারকের কাছে বিক্রি করেছি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে অযথা বিরোধ সৃষ্টি করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনার আগে মোবারকও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা সফল না হওয়ায় প্রতিপক্ষ চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আইনগত প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এলাকার এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, জমি বিক্রির বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। এরপর দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এখন ঘটনাকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, একটি ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে নিরীহ ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে অভিযোগকারীদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষের অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা উচিত। তাদের বিশ্বাস, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং গুজব ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।
