চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সামপ্রতিক সময়ে ছিঁচকে চুরি ও জলদস্যুতার ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে বহির্নোঙরে বিদেশি জাহাজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঠেকাতে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। বৃহস্পতিবার রাতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফাত ইনান জানান, সমপ্রতি বহির্নোঙরে কয়েকটি ছোটখাটো চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২শে জুলাই বন্দর ভবনে বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহির্নোঙরে অবস্থানরত বিশেষ করে স্ক্র্যাপবাহী জাহাজে নজরদারি বাড়ানো হবে। চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি জাহাজের আগমনের সম্ভাব্য সময় (ইটিএ) আগেভাগে কোস্ট গার্ডকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জাহাজে বন্দর কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ও প্রশিক্ষিত ওয়াচম্যান নিয়োগ নিশ্চিত করতে শিপিং এজেন্ট ও জাহাজ মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস)-এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান, কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ টহল বৃদ্ধি, বহির্নোঙরে অননুমোদিত মাছ ধরা ও অবৈধ পণ্য কেনাবেচা বন্ধে অভিযান জোরদার এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা (আইএসপিএস) কোড অনুসরণকারী একটি সুরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই)। বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় বন্দরের মূল চ্যানেল ও বহির্নোঙরের নিরাপত্তা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এদিকে বহির্নোঙরে জলদস্যুতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর কাছে পৃথক চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
চেম্বারের সভাপতি মো. আমিরুল হকের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বহির্নোঙরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু শিপিং শিল্প নয়, জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক মাসে বহির্নোঙরে একাধিক বিদেশি জাহাজ জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় মূল্যবান মালামাল লুট হওয়ার পাশাপাশি নাবিকদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে বিদেশি জাহাজ মালিক, শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
