ঢাকায় থেকেও সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

মাদ্রাসায় ‘ভাড়াটিয়া’ শিক্ষক

ঢাকায় থেকেও সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার চাঁন্দাইর দারুল উলুম দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত এক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করলেও তার নামে নিয়মিত হাজিরা দেখিয়ে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তার পরিবর্তে অন্য একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন এবং হাজিরা খাতায়ও তার পক্ষ হয়ে স্বাক্ষর করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিন বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য শিক্ষক যথারীতি ক্লাস নিচ্ছেন। তবে সহকারী জুনিয়র মৌলভী ফুয়াদ হোসেনকে মাদ্রাসায় পাওয়া যায়নি। তার নির্ধারিত শ্রেণিতে পাঠদান করাচ্ছিলেন জাহিদ নামের এক ব্যক্তি। হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফুয়াদের নামের বিপরীতে নিয়মিত উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই হাজিরা খাতায় ফুয়াদের পরিবর্তে জাহিদই নিয়মিত স্বাক্ষর করছেন। জানা গেছে, আহাম্মেদাবাদ ইউনিয়নের ঝামুটপুর গ্রামে অবস্থিত চাঁন্দাইর দারুল উলুম দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

জানা গেছে, এনটিআরসিএ’র সুপারিশে ফুয়াদ হোসেন ২০২৫ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ইবতেদায়ী শাখায় সহকারী জুনিয়র মৌলভী হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন। প্রতি মাসে বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় এক-দুইদিনের জন্য মাদ্রাসায় এলেও বাকি সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। এ সময়ে তার পরিবর্তে অন্য একজন পাঠদান করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুয়াদ বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক বলেন, ফুয়াদ নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। মাসে একবার এসে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আবার চলে যান। বাকি সময় অন্য একজন ক্লাস নেন। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় সবাই জানেন। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, এমনিতেই শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে। তার ওপর একজন শিক্ষক নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, ফুয়াদ ঢাকায় থাকেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। তাই কয়েক মাস ধরে তার ক্লাস আমি নিচ্ছি। তবে তিনি কী ভিত্তিতে পাঠদান করছেন কিংবা কোনো নিয়োগ বা অনুমোদন আছে কিনা, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। অভিযুক্ত শিক্ষক ফুয়াদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। মাদ্রাসার সুপার হাফিজার রহমান স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনসুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ঢাকায় অবস্থান করে অন্য কাউকে দিয়ে পাঠদান করানোর কোনো সুযোগ নেই। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন