দুই সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ ও নদীর পানির প্রবল স্রোতে ইতিমধ্যেই রাস্তাটির একটি বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ফলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রমে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের দেউলী, যশোবন্তপুর ও কালীশঙ্করপুর থেকে ঝামা যাওয়ার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ভাঙনের মুখে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাস্তাটি দিয়ে প্রায় ৪টি গ্রামের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
বিশেষ করে রাস্তাটি ব্যবহার করে স্থানীয় ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেউলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝামা বরকাতুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। ঝামা গ্রামের বাসিন্দা মো. শহিদুল বিশ্বাস বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের দুঃখের শেষ নেই। এলাকার কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। সন্তানরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়, যতক্ষণ তারা নিরাপদে বাড়ি না ফেরে ততক্ষণ আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়।
আমরা অবিলম্বে এখানে টেকসই গাইড ওয়াল বা নদীর বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি বারবার অবহিত করেছি। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে বা স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাস্তাটি রক্ষা করা না হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থা চরম সংকটে পড়বে। মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবর্তী মিস্ত্রি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে দ্রুতই জরুরি সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে। জনস্বার্থে রাস্তাটির স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
