বেরোবিতে জাল সনদে চাকরি প্রমাণ মিললেও ব্যবস্থা নেই

বেরোবিতে জাল সনদে চাকরি প্রমাণ মিললেও ব্যবস্থা নেই

ফন্ট সাইজ:

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাল সনদ ব্যবহার করে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের ২৯শে জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত উপাচার্যের কাছে পাঠানো এক নথিতেও অভিযুক্ত ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সনদ যাচাইয়ের ফলাফল তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যাচাই প্রতিবেদনে তাদের জমা দেয়া সনদের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় একজনের পেছনে মাসিক গড়ে ৪০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়।

সে হিসাবে ১০ জনের জন্য বছরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা এবং ১২ বছরে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাব থেকে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। রেজিস্ট্রারের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলেন শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা, কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের সহকারী স্টোর অফিসার রেহমান সরকার, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (গ্রেড-২) মো. এমদাদুল হক, বাংলা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (গ্রেড-২) মো. মনিরুজ্জামান, স্টুডেন্ট অ্যান্ড ক্যাশ শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. মাহবুবার রহমান, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. শাহীদ আল মামুন, বিজয়-২৪ হলের সেকশন অফিসার আতিকুজ্জামান সুমন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সিনিয়র সেমিনার সহকারী আবু তাহের মণ্ডল এবং সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের ক্যাটালগার মো. মাহাফুজার রহমান ও মো. আলমগীর হোসেন।

নথি অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কেউ স্নাতক, কেউ স্নাতকোত্তর এবং কেউ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ের জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে যোগ দেন। এদিকে জাল সনদের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। আমাদের কারও সনদ জাল নয়। উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন