সাপের দংশনের চিকিৎসায় ‘পাথরের’ রহস্য

ফন্ট সাইজ:

বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাপের দংশনের ঘটনাও বৃদ্ধি পায়। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোকজ চিকিৎসার প্রচলন থাকলেও শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বারমারী এলাকার একটি বিশেষ কালো পাথর দিয়ে চিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় ‘আওয়ার লেডি অব লুর্দস্‌ ডিসপেনসারি’তে ১৯৪৬ সাল থেকে এ পদ্ধতিতে সাপে দংশন রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কর্তব্যরত সিস্টার বাপতিস্তা দাবি করেন, ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে বিশেষ পাথর বসানো হলে বিষের প্রভাব কমে যায় এবং বিষের প্রভাব শেষ হলে পাথরটি নিজ থেকেই খুলে পড়ে।

তিনি জানান, সামান্য অর্থের বিনিময়ে এ সেবা দেয়া হয় এবং নির্দিষ্ট কোনো ফি নেই। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতি বছর গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নেন। তার দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৯৩ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং এ সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অতীতে তিন-চারজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে সাপ দংশনের পর ক্ষতস্থানের ওপরে সঠিকভাবে বাঁধন না দেয়ায় বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চিকিৎসা নেয়া মফিজুল ইসলাম জানান, সাপে দংশনের পর তার পা ফুলে যায়। পরে বারমারীতে নিয়ে গিয়ে পাথর বসানোর পর ধীরে ধীরে ব্যথা কমে এবং দুইদিন পর পাথরটি নিজে থেকেই খুলে পড়ে। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। তবে এ চিকিৎসা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ এর উপকারিতা স্বীকার করলেও, অনেকেই কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পাথর দিয়ে সাপ দংশনের চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সাপ দংশনের পর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম প্রয়োগই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। তাই লোকজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন