শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে নেশার ভয়াবহ বিস্তার, এলাকা জুড়ে উদ্বেগ

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে নেশার ভয়াবহ বিস্তার, এলাকা জুড়ে উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ‘ড্যান্ডি’ নামে পরিচিত গ্লু-জাতীয় নেশা। স্টেশনের পরিত্যক্ত কোণা, প্ল্যাটফরমের নির্জন অংশ, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা এবং আশপাশের ঝোপঝাড়ে প্রতিদিনই একদল সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরকে পলিথিনে গ্লু নিয়ে নেশা করতে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও এ ধরনের দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়তো না। কিন্তু বর্তমানে স্টেশন এলাকায় দিন-রাত প্রায়ই শিশু-কিশোরদের দলবেঁধে ড্যান্ডি সেবন করতে দেখা যায়। নেশার ঘোরে তারা অনেক সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ড্যান্ডি মূলত এক ধরনের গ্লু বা আঠা জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ, যা রাবার, জুতা, টিউবসহ বিভিন্ন সামগ্রী মেরামতে ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই নেশাকে ‘গ্লু স্নিফিং’ বলা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ড্যান্ডি সেবনের ফলে মস্তিষ্ক, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, লিভার, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, আচরণগত পরিবর্তন এমনকি আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। স্টেশন এলাকার দোকানদার ও যাত্রীদের অভিযোগ, নেশার টাকা জোগাড় করতে এসব শিশু-কিশোর চুরি, ছিনতাই, মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া, দোকানে চুরি এবং পথচারীদের হয়রানির মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, স্টেশন এলাকায় নেশাগ্রস্তদের উৎপাতের কারণে অনেক ক্রেতা দোকানে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, স্টেশন এলাকায় নিয়মিত অভিযান, সামাজিক নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সচেতন নাগরিকরা শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, স্টেশন এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার, ড্যান্ডি বিক্রিতে কঠোর নজরদারি, ভাসমান শিশুদের পুনর্বাসন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা জরুরি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন